ভুবনেশ্বর: স্যর আইজ্যাক নিউটন কে ছিলেন? মাধ্যাকর্ষণ শক্তি এবং গতিসূত্রের আবিষ্কারক! উঁহু, তিনি ছিলেন ‘মহান পাইলট’। এই দাবি ওড়িশার বিজেপি সরকারের স্কুলপাঠ্য বইয়ের। পুরী বেড়াতে গেলে অনেকেই একবার ঢুঁ মারেন কোনারকের সূর্যমন্দিরে। তাঁদেরও এবার ভাবতে বসতে হবে। কারণ, ওড়িশারই সরকারি পাঠ্যপুস্তকে কোনারকের সূর্যমন্দিরের বিবরণের পাশে ছবি দেওয়া হয়েছে কর্ণাটকের হাম্পি মন্দিরের। এখানেই শেষ নয়, কর্ণাটক বিধানসভার ছবি দিয়ে লেখা হয়েছে ওড়িশা বিধানসভা। উধোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ের এরকম প্রায় ১ হাজার ৬০০ ‘মণিমুক্তো’ ছড়িয়ে রয়েছে ওড়িশার প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টমের বইতে।
বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্ক দেখা দিয়েছে ওড়িশায়। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক এই ঘটনাকে বিজেপি সরকারের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় বলে মন্তব্য করেছেন। এক্স হ্যান্ডলে নবীন লিখেছেন, ‘রাজ্যে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যবইয়ে শত শত ভুল বিজেপি সরকারের চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন ও উদাসীন মনোভাবের পরিচায়ক। এই সরকার শিশুদের সময়মতো পাঠ্যবই দিচ্ছে না। আর যে পাঠ্যবইগুলো পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলির অসংখ্য ভুল শিশুদের শিক্ষার আশা ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছে।’ ওড়িশার কংগ্রেস সভাপতি ভক্ত চরণ দাসের দাবি, ‘পাঠ্যবই ছাপাতে ৫০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। দ্রুততার সঙ্গে বই ছাপানোর জন্যই এই ভুল।’
চাপে পড়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গড়তে বাধ্য হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি। বুধবার লোক সেবা ভবনে এ নিয়ে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয় শিক্ষামন্ত্রী নিত্যানন্দ গোন্দ, মুখ্যসচিব অনু গর্গ এবং প্রবীণ আমলারা। এরপরই ডেভেলপমেন্ট কমিশনারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। কীভাবে এমন ভুল হল, সাতদিনের মধ্যে কমিটিকে তা রিপোর্ট দিয়ে জানাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ভুল এড়াতে ভবিষ্যতে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তাও জানাতে হবে কমিটিকে।
২০২০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতি এবং ওড়িশা কারিকুলাম ফ্রেমওয়ার্ক ২০২৫ অনুসরণ করে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য নতুন বই ছাপানো হয়েছে ওড়িশায়। স্কুলে স্কুলে তা পৌঁছানোর পরই ইতিহাস, বিজ্ঞান, ভূগোল-সহ বিভিন্ন বিষয়ের পাঠ্যবইয়ে ভুলের পাহাড় ধরা পড়ে। সব মিলিয়ে ১ হাজার ৬৭৮টি ভুল নজরে এসেছে শিক্ষকদের। এর মধ্যে ব্যাকরণগত ভুল যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে প্রচুর তথ্যগত ভ্রান্তি। সবচেয়ে বেশি ভুল অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকে। কেবল এই ক্লাসের বইতেই রয়েছে ৭০৫টি। ডিরেক্টরেট অব টিচার এডুকেশন অ্যান্ড স্টেট কাউন্সিল অব এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং-এর (এসসিইআরটি) তত্ত্বাবধানে পাঠ্যপুস্তকগুলি তৈরি করা হয়েছে। সংস্থা অবশ্য ভুল স্বীকার করে স্কুলগুলিতে একটি সংশোধনী বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। শিক্ষার্থীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তার জন্য শিক্ষকদের ক্লাস নেওয়ার সময় এই সংশোধনীগুলো ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।