সংবাদদাতা, বনগাঁ: বাংলাদেশে পৌঁছলেন নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। গত এপ্রিল মাসে তাঁকে বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ করেছিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। শুক্রবার পেট্রাপোল স্থল সীমান্ত পেরিয়ে তিনি বাংলাদেশে প্রবেশ করেন এবং সস্ত্রীক ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। পেট্রাপোল সীমান্তে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারকে সংবর্ধনা জানান পেট্রাপোল স্থল বন্দর ম্যানেজার কমলেশ শাহানী, ছিলেন বনগাঁ দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক স্বপন মজুমদার। সীমান্তে এদিন দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, 'আগামী দিনে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে'। এদিন বাংলাদেশের প্রশংসা করেন তিনি।
দীনেশ ত্রিবেদীর রাজনৈতিক জীবন দীর্ঘ ও বর্ণময়। জন্মসূত্রে গুজরাতি হলেও তাঁর পড়াশোনার বড় অংশ কেটেছে কলকাতায়। তিনি সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে বাণিজ্যে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করেন। আশির দশকে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দিয়ে তিনি প্রথমে জনতা দলের হয়ে রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত হন। পরে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়ে দলের প্রথম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন এবং দীর্ঘদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে দিল্লিতে রাজনৈতিক সমন্বয়ের কাজ সামলান। তৃণমূলের প্রথম সাধারণ সম্পাদক হন তিনি। ২০০২-’০৮ পর্যন্ত রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ হিসাবে দায়িত্বপাঠ সামলান তিনি। ২০০৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য রাষ্ট্রমন্ত্রী হন তিনি। পরবর্তীতে রেলমন্ত্রীর দায়িত্বও পান। তবে রেলভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব ঘিরে তৃণমূলনেত্রীর সঙ্গে মতবিরোধ তৈরি হলে তাঁকে সেই পদ ছাড়তে হয়। পরবর্তী সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে থাকায় ২০২১ সালে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন।
বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে দ্বীনেশ ত্রিবেদীর আগমন দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক মহলের একাংশ।