Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিনোদন

নতুন যৌবনের দূত

কথায় বলে, সংসার সুখের হয় রমনীর গুণে। কয়েকটা শব্দ এদিক-ওদিক করে বলা যায়, সিরিয়ালের টিআরপি বাড়ে রমনীর গুণে। সে কারণেই সিরিয়াল মূলত নারীকেন্দ্রিক

নতুন যৌবনের দূত
  • ১৮ নভেম্বর, ২০২৫ ১৭:১১
Prefer us on Google

শান্তনু দত্ত: কথায় বলে, সংসার সুখের হয় রমনীর গুণে। কয়েকটা শব্দ এদিক-ওদিক করে বলা যায়, সিরিয়ালের টিআরপি বাড়ে রমনীর গুণে। সে কারণেই সিরিয়াল মূলত নারীকেন্দ্রিক। টার্গেট অডিয়েন্স গৃহবধূ, মধ্যবয়স্কা বা প্রবীণারা। তবে সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে এই ধারণা বদলাচ্ছে। এখন টার্গেট অডিয়েন্স আর কেবল মহিলা বা প্রবীণেই সীমাবদ্ধ নেই। তরুণ প্রজন্মকেও টার্গেট করছেন নির্মাতারা। সাইবার ক্রাইম, থ্রিলার, র‌্যাপ, কলেজ লাইফ, স্কুল জীবন— প্রথম সারির চ্যানেলগুলিতে এধরনের বিষয় উঠে আসছে বারবার। এর ফলে ধারাবাহিক দেখার আগ্রহ বাড়ছে নতুন প্রজন্মের মধ্যেও। 

Advertisement

রোমান্স থেকে অ্যাকশন, কমেডি হোক বা হরর... ধারাবাহিকে একের পর এক ভিন্ন ধারার গল্প দেখেছেন দর্শক। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ের নানা ঘটনাও দেখানো হয়। এর মাধ্যমে দর্শক আরও বেশি কানেক্ট করতে পারেন চিত্রনাট্যের সঙ্গে। শুরু হতে চলেছে ‘বেশ করেছি প্রেম করেছি’ ধারাবাহিকটি। সিরিয়ালের গল্প স্কুল জীবনের প্রেম নিয়ে। জেন জি’র ভালোবাসার গল্পের প্রথম ঝলক সোশ্যাল মিডিয়ায় সাড়া ফেলেছে। আবার সম্প্রতি শুরু হয়েছে মধুমিতা সরকার ও নীল ভট্টাচার্যর ‘ভোলে বাবা পার করেগা’। মুখ্য চরিত্র ‘ঝিল’ র‌্যাপ গায়। তা ঘিরেই এগচ্ছে গল্প। নতুন প্রজন্ম অত্যন্ত পছন্দ করে র‌্যাপ। ফলে তাঁদের কথা মাথায় রেখেই যে এই গল্প ভাবা হচ্ছে, তা নিয়ে সংশয় নেই। মেনে নিলেন প্রযোজক-পরিচালক তথা লেখিকা লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, ‘তরুণ প্রজন্মের ধারাবাহিকের প্রতি ঝোঁক প্রথম থেকেই। বাড়িতে কেবল মা-জেঠিমারা ধারাবাহিক দেখেন, এমনটা নয়। আঠারো থেকে পঁয়ত্রিশের মধ্যে যাঁদের বয়স, তাঁদের মধ্যেও ধারাবাহিক দেখার প্রবণতা রয়েছে। দিন দিন তা বাড়ছে। এটা সার্ভে রিপোর্টের তথ্য।’ তিনি জানালেন, দর্শকের চাহিদা মতো বিজ্ঞাপন তৈরি হয়। ফলে ধারাবাহিকের রেটিং বেশি হলে বিজ্ঞাপনের পরিমাণ বাড়ে। তখন সিরিয়াল বেশিদিন চলে। তাই নতুন প্রজন্মের কথা মাথায় রেখে গল্প তৈরি হলে, সবধরনের বিজ্ঞাপন টানা সম্ভব হবে। সম্প্রতি লীনার অপর এক ধারাবাহিক ‘চিরসখা’র প্লুটো চরিত্রটি জনপ্রিয় হয়েছিল নবীন প্রজন্মের কাছে। ওই চরিত্রের মৃত্যুর পর অনেকেই ক্ষোভপ্রকাশ করেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। এর মাধ্যমে স্পষ্ট, কম বয়সিরাও দেখছেন ধারাবাহিক। 
এখন কেবল টেলিভিশনই নয়, মোবাইল-ল্যাপটপেও সিরিয়াল দেখেন অনেকে। রিল আকারে ভাইরাল হয় ধারাবাহিকের ছোট ছোট অংশ। এর ফলে পুরো পর্বটি দেখার আগ্রহও বাড়ে। এই দর্শকের সিংহভাগই নতুন প্রজন্ম। ফলে তাঁদের চাহিদা অনুযায়ী সিরিয়াল তৈরি করছেন নির্মাতারা। সম্প্রতি শুরু হয়েছে শ্রুতি দাস ও আরাত্রিকা মাইতি অভিনীত ‘জোয়ার ভাঁটা’র সম্প্রচার। দুই বোনের এই গল্পে সাইবার ক্রাইমের মতো বিষয় দেখছেন দর্শক। আবার ‘কম্পাস’ ধারাবাহিকে দেখানো হচ্ছে কলেজ জীবন, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের খুঁটিনাটি। এগুলি নিশ্চয়ই তরুণ প্রজন্মের কথা মাথায় রেখেই? প্রশ্ন করা হয়েছিল প্রযোজক সুশান্ত দাসের কাছে। তিনি বললেন, ‘টেলিভিশনে দর্শকের রুচি পরিবর্তনশীল। এখন গোটা ভারতবর্ষের ট্রেন্ড দেখলে বোঝা যাবে ১৮ থেকে ৩৫ বছরের দর্শকও ধারাবাহিক দেখছেন। তাই নতুন প্রজন্মকে আকৃষ্ট করার মতো গল্প আমরা তুলে ধরার চেষ্টা করছি। সেক্ষেত্রে কলেজের প্রেম বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল বিষয় প্রাধান্য পাচ্ছে। আর তরুণ প্রজন্ম টিভির থেকেও বেশি মোবাইল, ট্যাবের মতো মাধ্যমে কনটেন্ট কনজিউম করে।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ