শুভঙ্কর বসু, কলকাতা:
শুভঙ্কর বসু, কলকাতা:
আর খসড়া তালিকা প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা নয়। এবার স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন বা এসআইআরের প্রথম পর্বেই নাম তোলার আবেদন জানাতে পারবেন সদ্য ১৮ পেরোনো যুবক-যুবতীরা। অর্থাৎ এবার ইনিউমারেশন পর্বেই ভোটার তালিকায় নতুন ভোটারদের অন্তর্ভুক্তি হবে। পশ্চিমবঙ্গ সহ যে রাজ্যগুলিতে এসআইআর সংগঠিত হচ্ছে, সেসব রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক সিইওদের এমনই নির্দেশিকা পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। পাশাপাশি একটি হেল্পলাইন নম্বরও চালু করা হচ্ছে। সেটি হল, ১৮০০১১১৯৫০। এখানেই শেষ নয়, কোনও ভোটার চাইলে ‘ইসিআইনেট’ অ্যাপের মাধ্যমে বিএলওর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগও করতে পারবেন।
আগামী ৪ নভেম্বর থেকে এসআইআরের ইনিউমারেশন পর্ব শুরু হবে রাজ্যে। চলবে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এই পর্বে বুথ লেভেল অফিসাররা মূলত প্রতিটি ভোটারের বাড়িতে গিয়ে ইনিউমারেশন ফর্ম বিলি করবেন। সেই সঙ্গে কমিশনের নির্দেশ প্রতিটি বিএলওর কাছে অন্তত ৩০টি ৬ নম্বর ফর্ম (ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য প্রযোজ্য ফর্ম) রাখতে হবে। প্রতিটি বাড়িতে ইনিউমারেশন ফর্ম বিলির সময় বিএলওকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে নতুন ভোটারের খোঁজ করতে হবে। কোনও বাড়িতে যদি সদ্য ১৮ পেরোনো যুবক বা যুবতীর খোঁজ মেলে, সেক্ষেত্রে ইনিউমারেশন ফর্ম বিলির আগে সেই যুবক বা যুবতীকে ৬ নম্বর ফর্ম দিতে হবে বিএলওদের। তাঁরা তা পূরণ করে বিএলওদেরই হাতে দেবেন। অর্থাৎ ইনিউমারেশন পর্বেই এবার নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তির কাজ সেরে ফেলতে চাইছে কমিশন।
কিন্তু বিহারের ক্ষেত্রে চিত্রটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিহার এসআইআরের ইনিউমারেশন পর্ব শেষে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর নতুন ভোটার হিসেবে তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন জানানোর নিয়ম ছিল। তার জেরে সদ্য প্রাপ্তবয়স্ক যুবক-যুবতীদের চরম হয়রানির শিকার হতে হয়। এসআইআরের কাজে নিযুক্ত আধিকারিকদেরও চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের ক্ষেত্রে বেগ পেতে হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে কমিশনের কাছে অভিযোগও জানিয়েছিলেন একাধিক আধিকারিক।
সূত্রের খবর, বিহারে এসআইআর পর্ব মিটে যাওয়ার পর দিল্লিতে বৈঠকে বসেছিলেন কমিশনের শীর্ষ আধিকারিকরা। গোটা এসআইআর পর্বের চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়। আর তাতেই উঠে আসে একাধিক প্রসঙ্গ। তার মধ্যে অন্যতম ছিল নতুন ভোটারদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি। রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, বিহার থেকে শিক্ষা তো বটেই, আসলে এসআইআরের দ্বিতীয় পর্বে সমালোচনা এড়াতেই এই ধরনের পদক্ষেপ করেছে কমিশন। কারণ, বিহার এসআইআরে যে অনিয়মের ছবি ধরা পড়েছিল, তাতে রাজনৈতিক বিতর্ক তো ছিলই। আবার কমিশনকে সুপ্রিম কোর্টেরও একাধিক প্রশ্নের জবাব দিতে হয়েছিল। ফলে কমিশনের মতো একটি সাংবিধানিক সংস্থার ইমেজে যথেষ্ট প্রভাব পড়ে। প্রশ্ন উঠেছিল, কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপির অঙ্গুলি হেলনেই কি কাজ করছে কমিশন? তাই এসআইআরের দ্বিতীয় পর্বে মেপে পা ফেলেছে কমিশন। দেশজুড়ে এসআইআরের ক্ষেত্রে বিহারকে মডেল হিসেবে ঘোষণা করলেও দ্বিতীয় পর্বে তাই ইনিউমারেশন পর্বে নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তি থেকে শুরু করে নথি না চাওয়ার মতো পদক্ষেপ করেছে কমিশন।
এদিকে, কাজে যোগ না দেওয়া বিএলওদের আগেই চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছিল কমিশন। সেই চরম হুঁশিয়ারির পরও কাজে যোগ দেননি ১৪৩ জন বিএলও। সূত্রের খবর, আজ বেলা ১২টার পরই তাঁদের বিরুদ্ধে জনপ্রতিনিধিত্ব আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে কমিশন।