সংবাদদাতা, মাথাভাঙা: মাথাভাঙায় নাবালিকা ধর্ষণের ঘটনায় নয়া মোড়। ইতিমধ্যেই ওই ঘটনায় যুক্ত যুবতীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃত তিনজনকে হেপাজতে নিয়ে চলছে জিজ্ঞাসাবাদ।
সংবাদদাতা, মাথাভাঙা: মাথাভাঙায় নাবালিকা ধর্ষণের ঘটনায় নয়া মোড়। ইতিমধ্যেই ওই ঘটনায় যুক্ত যুবতীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃত তিনজনকে হেপাজতে নিয়ে চলছে জিজ্ঞাসাবাদ।
তদন্তকারী অফিসারদের সূত্রে জানা গিয়েছে, নাবালিকাকে ফুঁসলিয়ে ওই যুবতী নিয়ে গিয়েছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জেনেছে, গ্রাম থেকে শহরের স্কুল-কলেজ-টিউশনি পড়তে আসা ছাত্রীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে নানা প্রলোভনে তাদের নিয়ে গিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করতে বাধ্য করে। ওই যুবতী নাবালিকাকে একইভাবে পাশের জেলায় নিয়ে গিয়েছিল। ধৃত দুই অভিযুক্ত যুবক ও যুবতী পূর্ব পরিচিত হলেও বন্ধু বা আত্মীয় নয়। তাদের সঙ্গে অন্য কোনো সম্পর্ক থাকার তথ্যও মেলেনি। নাবালিকাকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে গিয়ে ওই যুবকদের হাতে তুলে দেওয়াই ছিল যুবতীর উদ্দেশ্য। পুলিশের দাবি, একটি চক্র এ ধরনের কাজে যুক্ত। ওই যুবতীর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না সেটাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
যে যুবতীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ সে নিগৃহীতার চেয়ে বয়সে অনেকটাই বড়। তবে নিজের চেয়ে বয়সে বড় ওই যুবতীর সঙ্গে কী করে বন্ধুত্ব হল, নাবালিকার সঙ্গে কথা বলে সেটাও খতিয়ে দেখছেন অফিসাররা। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, গ্রাম থেকে শহরে আসা ছাত্রীরা বাড়ি থেকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত টাকা চাইতে পারে না। হঠাৎ শহরে আসায় এখানকার জীবনযাত্রার সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে আর্থিক চাহিদা অনেকটাই বেড়ে যায় তাদের। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই একটি চক্র মেয়েদের বিপথে চালিত করছে। প্রথমদিকে মেয়েদের বুঝতে না দিয়েই ফাঁদে ফেলে চক্রের পান্ডারা। আবার অনেকেই নিজেদের ইচ্ছাতেই সেই পথে পা বাড়ায়।
তদন্তকারী পুলিশ অফিসাররা জানিয়েছেন, চক্রের মাথা পর্যন্ত পৌঁছনোর চেষ্টা করা হচ্ছে। গ্রামের সাধারণ মেয়েদের ফাঁদে ফেলতে কী কী পন্থা অবলম্বন করে চক্রের সদস্যরা সেটাও জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়া নাকি অন্য কোনো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে খদ্দের জোগাড় করে চক্র, সেটাও জানার চেষ্টা চলছে।
এই ঘটনা সামনে আসতেই শহরজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিকদের দাবি, এই ঘটনায় যুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নাবালিকার সঙ্গে কথা বলে প্রকৃত বিষয়টি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।