নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান, আসানসোল ও সংবাদদাতা: নতুন বছরের প্রথমদিনে জেন-জি ভিড় জমাল জেলার মন্দিরগুলিতে। কয়েক বছর আগেও বছর শেষের রাতে পার্টি করে পরের দিন পিকনিকে মজত নতুন প্রজন্ম। সেই ট্রেন্ডে বদল এসেছে। পূর্ব বর্ধমান জেলার সর্বমঙ্গলা মন্দির হোক কিংবা পশ্চিম বর্ধমানের কল্যাণেশ্বরী মন্দির, সব জায়গাতেই ছিল নতুন প্রজন্মের ভিড়। নতুন বছরে শান্তি, সুস্থতার কামনা করলেন তাঁরা। কোথাও কোথাও ডিজের তালে পিকনিকের আসরে যুবক-যুবতীরা কোমর দোলালেন ঠিকই, কিন্তু তা আগের মতো নয়। এদিন বর্ধমান শহরের কঙ্কালেশ্বরী, বড়মা, ছিন্নমস্তা কালীমন্দিরে সকাল থেকেই ভিড় দেখা যায়। জেলার সতীপীঠগুলিতেও ছবিটা ছিল একই রকম।
এদিন ভোর থেকেই আসানসোল, দুর্গাপুর, রানিগঞ্জ, অণ্ডাল, জামুড়িয়ার বিভিন্ন মন্দিরে ভক্তদের ভিড় দেখা যায়। দুর্গাপুরের ভিড়িঙ্গি কালীমন্দির, পিয়ালা কালীমন্দিরে মানুষের লম্বা লাইন ছিল। আসানসোলের ঘাগরবুড়ি মন্দিরে সকাল থেকে বিশেষ পুজো শুরু হয়। সারাবছর ভালো কাটানোর উদ্দেশ্যে ভক্তরা মন্দিরে প্রার্থনা করেন। এই দিনেই রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব কল্পতরু হয়েছিলেন। ভোর থেকে আসানসোল রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমে বহু মানুষ ভিড় জমায়।
কাটোয়া মহকুমায় চারটি সতীপীঠ আছে। মঙ্গলকোটের ক্ষীরগ্রামে মা যোগাদ্যা তার মধ্যে অন্যতম। এখানে সতীর ডান পায়ের বুড়ো আঙুল পড়েছিল। এদিন এখানেও সকাল থেকে ব্যাপক ভিড় ছিল। মঙ্গলকোটের অপর সতীপীঠ কোগ্রামে দেবী মঙ্গলচণ্ডীর পুজো হয়। এখানে দেবীর বাঁ হাতের কনুই পড়েছিল। কালীপুজোয় এখানে শক্তির আরাধনা করা হয়। এদিন এখানেও ভক্তরা পুজো দেন। পাশাপাশি, কোগ্রামে অজয় নদের বাঁকে কবি কুমুদরঞ্জন মল্লিকের বসতভিটেয় বহু পর্যটক আসেন। কেতুগ্রামের সতীপীঠ বাহুলক্ষ্মীতলা, অট্টহাস মন্দিরেও এদিন প্রচুর ভক্তের সমাগম হয়। অট্টহাসে দেবীর অধঃওষ্ঠ পড়েছিল। কলকাতার গল্ফগ্রিনের বাসিন্দা অনুপম ভরদ্বাজ, নিশা স্যানাল বলেন, প্রতিবছর জানুয়ারির প্রথমদিনে অট্টহাস মন্দিরে দেবীকে দর্শন করে যাই। এবছরও এসেছি। এবারে ডিজের প্রচণ্ড দাপট ছিল।
বৃহস্পতিবার নতুন বছরের প্রথমদিনে মাইথনে মানুষের ঢল নামে। ঝাড়খণ্ড লাগোয়া শিল্পাঞ্চলের এই ট্যুরিস্ট স্পটে এদিন কার্যত জনজোয়ার নামে। ভোর থেকেই দূর-দূরান্তের মানুষ পিকনিক করতে হাজির হয় ডিভিসির এই বিশাল জলাশয়ের চারপাশে। বছরের প্রথমদিনে মা কল্যাণেশ্বরী মন্দিরে পুজো দিতে ভক্তরা হাজির করেন। দু’টি পর্যটন ক্ষেত্র একই রাস্তার উপর হওয়ায় বেলা বাড়ার সঙ্গে যানজট শুরু হয়। একসময় পুলিশকে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের ডুবুরডিহি চেকপোস্টের কাছে মাইথন ও কল্যাণেশ্বরী যাওয়ার রাস্তার নো এন্ট্রি করে দিতে হয়। যার জেরে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হয়। মাইথনের পাশাপাশি বাথানবাড়িতে প্রবল ভিড় হয়। পূর্ব বর্ধমানের পিকনিক স্পটগুলিও ছিল জমজমাট। দামোদরের পাড়ে খাওয়া-দাওয়া, নাচ, গান বিকেল পর্যন্ত চলে। অনেকে পেটে পানীয় নিয়ে রঙিন দুনিয়ায় প্রবেশ করেন। তাঁদের অনেককেই গাড়িতে করে তুলে আনতে হয়। এই দৃশ্য দেখে অনেকে যেমন নাক সিঁটকেছেন, তেমনই প্রবীণরা মন্দিরে নবীনদের লাইন দেখে প্রশংসা করেছেন।
এদিন কালনা রাজবাড়ি চত্বরে পর্যটকদের ভিড় উপচে পড়ে। শহরের কেন্দ্রস্থলে রয়েছে ১০৮ শিবমন্দির, প্রতাপেশ্বর শিবমন্দির, লালজি ও কৃষ্ণচন্দ্র মন্দির। নতুন বছরের প্রথমদিনে প্রাচীন এই স্থাপত্যশৈলী দেখতে বহু মানুষ ভিড় জমায়। কালনা পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান তপন পোড়েল বলেন, এদিনের ভিড় অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। বর্ধমানে সর্বমঙ্গলা মন্দিরে পুজো দেওয়ার ভিড়।-নিজস্ব চিত্র