Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বঙ্গ রাজনীতির হটটপিক ‘অনুপ্রবেশ’ নিয়েই নতুন বিভাগ চলচ্চিত্র উত্সবে

অনুপ্রবেশ এবং গণহত্যার মতো জ্বলন্ত আন্তর্জাতিক ইশ্যু এবার ৩১তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সবে। এবছর প্রথমবার উত্সবে যুক্ত হয়েছে নতুন বিভাগ ‘বিয়ন্ড বর্ডারস: ডিসপ্লেসমেন্ট, মাইগ্রেশন’।

বঙ্গ রাজনীতির হটটপিক ‘অনুপ্রবেশ’ নিয়েই নতুন বিভাগ চলচ্চিত্র উত্সবে
  • ৩ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অনুপ্রবেশ এবং গণহত্যার মতো জ্বলন্ত আন্তর্জাতিক ইশ্যু এবার ৩১তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সবে। এবছর প্রথমবার উত্সবে যুক্ত হয়েছে নতুন বিভাগ ‘বিয়ন্ড বর্ডারস: ডিসপ্লেসমেন্ট, মাইগ্রেশন’। পৃথিবীজুড়ে এই মুহূর্তে অনুপ্রবেশ জ্বলন্ত একটি ইশ্যু। দেশ এবং রাজ্য রাজনীতিও অনুপ্রবেশ নিয়ে উত্তপ্ত। শুধুমাত্র নাগরিকত্ব চলে যাওয়ার আতঙ্কে বহু মানুষ আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছেন বাংলায়, একের পর এক এরকম অভিযোগ উঠছে। এবছর এ সংক্রান্ত বাছাই করা ন’টি ছবি দেখানো হবে উত্সবে। থাকছে প্যালেস্তাইন, ইরাক, লেবানন, মিশর, সুদান, সৌদি আরব, তিউনিশিয়ার সিনেমা।

Advertisement

প্যালেস্তাইনে গণহত্যা পৃথিবীর মানুষকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। কলকাতার রাজপথে পর্যন্ত মিছিল হয়েছে প্যালেস্তাইনের প্রতি সংহতি জানিয়েছে। নতুন বিভাগ অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি চলচ্চিত্র উত্সবের চেয়ারম্যান প্রখ্যাত পরিচালক গৌতম ঘোষের মস্তিষ্কপ্রসূত। কোন তাগিদ থেকে তিনি মনে করলেন, বাংলার মানুষকে এই ছবিগুলি দেখানো দরকার? গৌতমবাবু বলেন, ‘গোটা পৃথিবীতে এখন মানুষের সঙ্গে মানুষের বিভেদ বাড়ছে। অদ্ভুত বিষয় হল, যোগাযোগ ব্যবস্থা যত উন্নত হচ্ছে, ততই বাড়ছে বিভেদ। এই বিষয় নিয়ে সারা পৃথিবীতে অনেক ছবি হচ্ছে। প্যালেস্তাইনে বীভত্স গণহত্যা হয়ে গেল। যা দেখে আমরা স্তম্ভিত। এই বিভাগে আমরা রোহিঙ্গাদের নিয়েও একটি ছবিও রেখেছি।’ উৎসব কমিটি চাইছে, মানুষ ছবিগুলো দেখুন। জানুন, সারা পৃথিবীতে অনুপ্রবেশের জিগির আসলে কোন জায়গাতে নিয়ে যাচ্ছে মানব সভ্যতাকে। কাজেই ছবিগুলি শুধুমাত্র দেখানো নয়, এর মাধ্যমে বাংলার মানুষকে বার্তাও দিতে চাইছে চলচ্চিত্র উত্সব কমিটি। কী সেই বার্তা? গৌতমবাবু বলেন, ‘মানবসমাজের একাংশ অত্যন্ত নিম্ন মানসিকতার পরিচয় দিচ্ছেন। হানাহানি, রক্তপাত, অসহিষ্ণুতা গিয়েছে বেড়ে। অন্য জাত, অন্য ধর্মকে কেউ সহ্য করতে পারছে না। তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সহিষ্ণুতা ফিরিয়ে আনতে হবে।’
বর্তমানে এসআইআর নিয়ে বাংলার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, ‘বিজেপি নেতাদের কথায় ছড়িয়ে পড়ছে বিদ্বেষের বাতাবরণ।’ এমত অবস্থায় সঠিক চলচ্চিত্রের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন গৌতম ঘোষ। এই বিভাগে নির্বাচিত প্রতিটি ছবিই কান, টরেন্টোর মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্র উত্সবগুলিতে দেখানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, ৬ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে ৩১তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সব। চলবে ১৩ তারিখ পর্যন্ত।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ