নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: রাজ্যে পর্যটন দপ্তরকে লিড দপ্তরে পরিণত করা হবে। এজন্য নতুন একগুচ্ছ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী ৪ সেপ্টেম্বর চালু করা হবে দপ্তরের নতুন লোগোর। শিলিগুড়িতে এমন পরিকল্পনার কথা জানান পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ। একই সঙ্গে তিনি জানান, শুধু মরশুম অনুসারে নয়, এবার বছরভর চলবে পর্যটন ব্যবসা।
পর্যটন শিল্পকে চাঙ্গা করতে ময়দানে ঝাঁপিয়েছেন পর্যটনমন্ত্রী। এজন্য তিনি দপ্তরের ভোল বদলের উদ্যোগ নিয়েছেন। ইতিমধ্যে পর্যটন দপ্তরের সাইনবোর্ড পরিবর্তন করা হয়েছে। শিলিগুড়িতে দপ্তরে ঝোলানো হয়েছে গেরুয়া রঙের সাইনবোর্ড। পর্যটনমন্ত্রী বলেন, আগে দপ্তরে শুধু ধুল আর মাকড়সার জাল ছিল। সেই দপ্তর পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য দপ্তরের সঙ্গে তাল মিলিয়ে লিড ডিপার্টমেন্ট হয়ে উঠবে। এই ভাবনা নিয়ে আমরা কাজ করছি। আগামী ৪ সেপ্টেম্বর পর্যটন দপ্তরের নয়া লোগো লঞ্চ করা হবে। ১৭ তারিখে বেলুন ও ঘুড়ি উৎসব হবে। দার্জিলিং, কলকাতা এবং শিলিগুড়িতে হবে টি-ফেস্টিভাল। শীতে কমলালেবু ফেস্টিভাল হবে। সান্দাকফুতে ‘ল্যান্ড রোভার’ বা ভিন্টেজ কার নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
শুধু সিজেনে আটকে রেখে নয়, পর্যটন শিল্পকে বছরভর করার কথা জানিয়েছেন পর্যটনমন্ত্রী। তিনি বলেন, পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা থেকে সাফল্য, সেটাকে চূড়ান্ত করতে সক্ষম হব। পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় তা করব। তাই রাজ্যের পর্যটন এখন শুধুমাত্র ট্যুরিস্ট সিজনের জন্য নয়, ৩৬৫ দিনের পর্যটন আমরা করব। সেই পরিকাঠামো আমরা গড়ে তুলব। ট্যুরিজম ইন্ডাস্ট্রিকে সঠিকভাবে এক্সপ্লোর করা হয়নি। বিগত সরকার ভেবেছিল, শুধু ট্যুরিজম কম্পোনেন্ট বা স্টেকহোল্ডাররাই পর্যটনকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যাবে। আর বর্তমান সরকার মনে করে, এক্ষেত্রে সরকারেরও একটা ভূমিকা রয়েছে। আমরা এক হাজারেরও বেশি অ্যামেনিটি সেন্টার তৈরি করেছি ট্যুরিজম স্পটে। এছাড়া নতুন কিছু পলিসি নেওয়া হয়েছে।
দার্জিলিং, সুন্দরবন, দীঘা ও পুরুলিয়াকে সামনে রেখে কলকাতার সঙ্গে ওয়েডিং ও মাইস ডেস্টিনেশন গড়ে তোলা হবে। ইতিমধ্যে ৪৫০ জন ওয়েডিং প্ল্যানার ও শেফদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। উত্তরবঙ্গ সহ পশ্চিমবঙ্গে যেন বড়ো হোটেল চেইন আসে, সেই লক্ষ্যেই কাজ চলছে। নবদ্বীপের মায়াপুরকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় সার্কিটের মতো নতুন সার্কিট গড়ে তোলা হচ্ছে।