Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

আর জি কর ইমার্জেন্সির তাণ্ডবে নতুন করে তদন্ত? রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠকে একাধিক সিদ্ধান্ত

আর জি কর মেডিকেল কলেজের অভয়ার খুন-ধর্ষণ কাণ্ডের মতো হাসপাতালের ইমার্জেন্সি তাণ্ডব চালানো এবং বেপরোয়া ভাঙচুরের ঘটনারও কি নতুন করে তদন্ত হবে?

আর জি কর ইমার্জেন্সির তাণ্ডবে নতুন করে তদন্ত? রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠকে একাধিক সিদ্ধান্ত
  • ২৭ মে, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আর জি কর মেডিকেল কলেজের অভয়ার খুন-ধর্ষণ কাণ্ডের মতো হাসপাতালের ইমার্জেন্সি তাণ্ডব চালানো এবং বেপরোয়া ভাঙচুরের ঘটনারও কি নতুন করে তদন্ত হবে? মঙ্গলবার হাসপাতালে রোগী কল্যাণ সমিতির (আরকেএস) বৈঠক বসে। বৈঠক সূত্রেই জানা গিয়েছে, এদিন দুপুরে বৈঠকে আমন্ত্রিত সদস্য হিসেবে যোগ দিতে এসেছিলেন কাশীপুর বেলগাছিয়ার বিজেপি বিধায়ক রীতেশ তেওয়ারি। তিনি আরকেএস-এর উপস্থিত সদস্যদের বলেন, স্কুল, হাসপাতালে হামলা করা যায় না। তার থেকে জঘন্য ঘটনা আর হয় না। হাসপাতালে হামলা করে, ভাঙচুর করে কেউ পার পেয়ে যাবে—সেগুলি সমাজে মোটেই ভালো দৃষ্টান্ত তৈরি করে না। তাই ২০২৪ সালে ১৪ আগস্টে আর জি কর-এর ইমার্জেন্সিতে ভাঙচুরের ঘটনার যথোপযুক্ত তদন্ত হওয়ার দরকার আছে। ঘটনায় নতুন করে এফআইআর হওয়ার দরকার আছে। এদিনই বেহালার সরশুনা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আরকেএস বৈঠকে বসেছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক ডাঃ ইন্দ্রনীল খান। 

Advertisement

প্রসঙ্গত, অভয়া কাণ্ডের অব্যবহিত পরই ১৪ আগস্ট রাতে এখানকার ইমার্জেন্সি ও ইমার্জেন্সি চত্বরে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছিল একদল দুষ্কৃতী। ইমার্জেন্সি হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিট (এইচডিইউ) সহ একাধিক দামি যন্ত্রপাতি, ওয়ার্ড, আসবাব, দরজা-জানলা তছনছ করে দিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। সরকারকে আর জি কর জানিয়েছিল, প্রায় ৮১ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। ঘটনায় একাধিক ফৌজদারি মামলা রুজু হয়। ৪০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। তাঁরা প্রত্যেকেই বর্তমানে জামিনে মুক্ত আছেন। 
এদিন হাসপাতালে কর্মরত ঠিকাকর্মীর প্রকৃত সংখ্যা কত, সেই ব্যাপারে বিস্তারিত খোঁজখবর করতে আর জি কর কর্তাদের অনুরোধ করেন বিধায়ক। প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ ছিল, এখানে কর্মরত ঠিকাকর্মীদের সংখ্যা হিসেবে যা সরকারকে দেখানো হচ্ছে এবং সেই মোতাবেক একাধিক এজেন্সি সরকারের কাছে যা বিল পেশ করছে, বাস্তবে সেই সংখ্যক ঠিকাকর্মী এখানে কাজই করেন না। এভাবে মাসে মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা সরকারের ক্ষতি হচ্ছে। মানুষও যা পরিষেবা পাওয়ার, তা পাচ্ছে না। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, এখানে সরকার নিযুক্ত দুটি এজেন্সির মাধ্যমে ২৭৩ জন করে মোট ৫৪৬ জন ঠিকাকর্মী কাজ করেন বলে সরকারি খাতায় দেখানো হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এর তুলনায় অনেক কম সংখ্যক ঠিকাকর্মী কাজ করেন বলে অভিযোগ। হাসপাতালের ঠিকাকর্মীদের হাজিরা নেন সুপারভাইজাররা। এবার থেকে নার্সিং সুপার বা ডেপুটি সুপারকেও হাজিরা নিতে বলা হবে। দুটি হাজিরাই যাচাই করে দেখা হবে। এইসব বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রীতেশবাবু মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বলেন, ‘বিধায়ক হওয়ার পর প্রথমবার এলাম। সব শুনলাম। রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরের দায়িত্বে মন্ত্রী এলে, এখানকার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দেখা করব।’

সম্পর্কিত সংবাদ