নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: জনসংখ্যা বেড়েছে, বেড়েছে যানবাহনের চাপ। কিন্তু গত ১৫-২০ বছরে সেই অনুপাতে বাড়েনি রাস্তা। তার জেরেই ব্যাঁটরার কদমতলা বাজারে দিনের পর দিন বাড়ছে যানজট ও নিত্যদিনের দুর্ভোগ। এই পরিস্থিতিতে বাজারটিকে নতুন করে সাজিয়ে যানজট কমানোর পরিকল্পনা করেছে প্রশাসন। বুধবার হাওড়া পুরসভার কমিশনার তেজস্বী রানা ও আধিকারিকদের নিয়ে কদমতলা বাজার ঘুরে দেখলেন শিবপুরের বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ। বাজারের পরিকাঠামো খতিয়ে দেখার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনেরও বার্তা দিয়েছেন তিনি।
এদিন ওই এলাকার রাস্তা, নিকাশি, আলো এবং পার্কিংয়ের অবস্থা সরেজমিনে দেখেন বিধায়ক ও পুর আধিকারিকরা। কথা বলেন দোকানদার, ক্রেতা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গেও। বাজারের ম্যাপ সামনে রেখে কোথায় কী ধরনের পরিকাঠামো রয়েছে এবং আগামী দিনে কোন জায়গায় কী কাজ প্রয়োজন, তা নিয়েও আলোচনা হয়। সরকারি জমি কোথায় রয়েছে, সেই জমি কাজে লাগিয়ে বাজারের সমস্যা মেটানো যায় কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান রুদ্রনীল। বাজারের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখার সময় কোথায় রাস্তা সরু হয়ে গিয়েছে, কোথায় জল জমার সমস্যা রয়েছে এবং কোথায় যানবাহন দাঁড়ানোর কারণে সমস্যা তৈরি হচ্ছে, সেগুলিও খতিয়ে দেখা হয়। বিধায়কের কথায়, ‘আমরা কদমতলা বাজারকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে চাই। রাস্তা, নিকাশি, আলো— সবকিছুই ঠিক করার পরিকল্পনা রয়েছে। কোথায় কীভাবে কাজ করা হবে, তার জন্য সার্ভে চলছে। সরকারি জমি চিহ্নিত করে সেখানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা যায় কি না, সেটাও দেখা হচ্ছে।’
তবে বাজার সংস্কারের পরিকল্পনায় ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদের কোনো প্রশ্ন নেই বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিধায়ক। রুদ্রনীল বলেন, ‘কোনো দোকানদার বা ব্যবসায়ীকে উচ্ছেদ করা হবে না। আমাদের উদ্দেশ্য উচ্ছেদ নয়, পুনর্বাসন।’ পুরসভার দাবি, সরকারি জমি পাওয়া গেলে সেখানে ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের পাশাপাশি স্কুটার, সাইকেল ও গাড়ি রাখার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তাতে বাজারের সামনে গাড়ির চাপ কমবে। ইতিমধ্যেই কাজের তালিকা তৈরির পাশাপাশি সমীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে। বৃষ্টির পরিমাণ কমায় এবার পুজোর আগে ও পরে বাজার সংস্কারের কাজে গতি আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। কদমতলার পাশাপাশি গোটা হাওড়ার পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজও ধাপে ধাপে এগনোর কথা জানিয়েছেন বিধায়ক।