শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস) অনুযায়ী, ইলেকট্রনিক এফআইআর চালু করলে কোথায় কোথায় সমস্যা হতে পারে তাই নিয়ে আইনি পরামর্শ শুরু করল রাজ্য পুলিশ। বিশেষত এর মাধ্যমে কেউ ভুয়ো অভিযোগ করলে তাঁকে কীভাবে চিহ্নিত করা হবে তা স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। সেই কারণে রাজ্য এই ফাঁকটি ভরাট করতে চাইছে। কেউ মিথ্যা অভিযোগ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, কীভাবে তাঁকে খুঁজে বের করা হবে বা তিনি হাজিরা না দিলে সেক্ষেত্রে কোন পদক্ষেপের পথে হাঁটবেন অফিসাররা, সেটি নির্দিষ্ট করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেই খবর। একইসঙ্গে এই নিয়ে একটি এসওপি তৈরি করে বিভিন্ন থানায় পাঠানো হবে।
ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই সকলে থানায় যেতে পারেন না। সেক্ষেত্রে অভিযোগ জানাতে দেরিই হয়। থানায় গিয়ে অভিযোগকারীকেও প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় অনেকসময়। দেরির কারণ জানতে চাওয়া হয়। দেরিতে অভিযোগ দায়েরের সুযোগ নেয় অভিযুক্ত ব্যক্তি। তার পক্ষে গা ঢাকা দেওয়া সহজ হয়ে যায়। আবার অনেক ক্ষেত্রে থানা অভিযোগ নিতে চায় না। এজন্যই বিএনএসএসে ইলেকট্রনিক এফআইআর এবং অভিযোগগ্রহণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিটি রাজ্যকে তা চালু করার নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। কিন্তু কোনও রাজ্যই তা চালু করতে পারেনি। গত মে মাসে দিল্লি পুলিশে পাইলট প্রজেক্ট চালু হয়েছে মাত্র।
এদিকে, ইএফআইআর চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তুলতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক রাজ্যগুলিকে বারবার চাপ দিচ্ছে। ইলেকট্রনিক এফআইআর চালু হলে কী কী সুবিধা অসুবিধা হতে পারে তা নিয়ে রাজ্য পুলিশ কর্তারাও পর্যালোনা শুরু করেছেন। সেখানে একাধিক অসুবিধার বিষয় সামনে আসছে। রাজ্য পুলিস সূত্রের খবর, অপহরণ বা গুরুত্বপূর্ণ অপরাধের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা জরুরি। চটজলদি বিভিন্ন বিষয় জানা দরকার। কারণ এক্ষেত্রে সময়টা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। থানায় গেলেই কেবলমাত্র সম্ভব। রাজ্যের একটা বড়ো অংশ গ্রামীণ এলাকাভুক্ত, বিষয়টি আধিকারিকদের ভাবাচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে ইন্টারনেট পরিষেবা ভালো নয়, ফলে অধিকাংশ সময় কাজ করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। আর গ্রামের বহুজন হাইটেক প্রযুক্তিতেও সড়োগড়ো নন। সেক্ষেত্রে ইএফআইআর চালু হলে তাঁরা আদৌ তা ব্যবহার করবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
একইসঙ্গে নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করে ডেটা বাইরে বের করা সম্ভব। তাতে বিপদ উলটে বাড়তে পারে। তবে কর্তাদের বেশি ভাবাচ্ছে, ভুয়ো অভিযোগ নিয়ে। কারণ ইএফআইআরে অভিযোগকারীকে সরাসরি দেখার সুযোগ নেই। তাই কেউ ভুয়ো এফআইআর করলে সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কীভাবে চিহ্নিত করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এজন্য রাজ্য একটি নির্দিষ্ট গাইডলাইন তৈরি করতে চাইছে, যাতে সমস্ত থানা সেইমতো কাজ করতে পারে। পাশাপাশি অভিযোগকারী যে-কম্পিউটার বা মোবাইল থেকে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন, ওই সূত্রে যাতে সেই ব্যক্তিকে পাওয়া যায় তার জন্য পরিকাঠামো তৈরির কাজও শুরু হয়েছে।