


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ, এমকম বা এমএসসি ডিগ্রি পাওয়ার আগ্রহ কমছে। সেই জায়গায় বরং নতুন প্রজন্ম স্নাতক স্তরের পর সার্টিফিকেট কোর্স করায় অনেক বেশি আগ্রহী। যে সার্টিফিকেট কোর্স তাঁদের দক্ষতা বৃদ্ধি করবে এবং কাজের বাজারে বাড়তি সুবিধা করে দেবে, তাতেই মন মজেছে নয়া প্রজন্মের পড়ুয়াদের। সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষা রিপোর্ট এমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কাজের বাজার সম্পর্কে নতুন প্রজন্মের ভাবনাচিন্তার হদিশ পেতে দেশের মোট ন’হাজার পড়ুয়ার উপর একটি সমীক্ষা চালায় প্রথম সারির একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সেই তালিকায় যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা আছেন, তেমনই রয়েছেন স্নাতক স্তরের পাঠ সদ্য শেষ করা যুবক-যুবতীরা। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ৬৮ শতাংশ মতামত দিয়েছেন, চিরাচরিত স্নাতকোত্তরে পড়াশোনার চেয়ে ঢের ভালো কোনও কর্মমুখী সার্টিফিকেট কোর্স করা। তা চাকরির বাজারে বাড়তি সুবিধা দেয়। ৮৫ শতাংশ সরাসরি স্বীকার করেছেন, সার্টিফিকেট কোর্স তাঁদের বাড়তি রোজগারের পথ দেখিয়েছে। অর্থাৎ তুলনামূলক বেশি বেতনের কাজ পেয়েছেন তাঁরা।
স্নাতক পর্ব শেষ করে কী কোর্স পড়া যায়? অথবা কোর্স শেষ করার পর কোথায় কাজ পাওয়া যায়? এই সংক্রান্ত সুলুকসন্ধানে সোশ্যাল মিডিয়াকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন পড়ুয়ারা। সমীক্ষায় ৪৬ শতাংশ পড়ুয়া জানিয়েছেন, তাঁরা কেরিয়ার সম্পর্কে জানতে ও সেই মতো এগতে সমাজ মাধ্যমে নজর রাখেন। পাশাপাশি, ৪৬ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, তাঁরা কাজ পেয়েছেন এখান থেকেই। পড়াশুনোর জন্য টাকা আসবে কোথা থেকে, তার সন্ধানে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআইয়ে ভরসা রাখছেন ৮৩ শতাংশ পড়ুয়া। সমীক্ষায় এমনই দাবি করা হয়েছে।
চাকরির ক্ষেত্রে পছন্দের ক্ষেত্র কোনটি? জানা যাচ্ছে, নতুন প্রজন্ম এমন কাজ চায়, যার সমাজে কদর ও প্রভাব আছে। অর্থাৎ নিজের কাজের কথা সবাইকে বলা যায় এবং সামাজিকভাবে সম্পন্ন হয়ে ওঠা যায় যে কাজের মধ্য দিয়ে, তাতেই বেশি আগ্রহ নয়া প্রজন্মের। ৬১ শতাংশ দাবি করেছেন, সামাজিকভাবে এগতে পারেন, তেমনই কাজ চান তাঁরা। ৩৮ শতাংশ দাবি করেছেন, ব্যাঙ্ক, বিমার মতো আর্থিক ক্ষেত্রের কাজ করতে তাঁরা বেশি আগ্রহী। ৩২ শতাংশ দাবি করেছেন, তাঁরা তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে কেরিয়ার তৈরি করতে চান। ২১ শতাংশের দাবি, তাঁরা কর্মজীবনে শিক্ষাক্ষেত্রের সঙ্গেই যুক্ত থাকতে চান।