অর্পণ সেনগুপ্ত, কলকাতা: আমাদের খেয়েপড়ে বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য হল কৃষিকাজ। এর আবার অন্য একটি দিকও রয়েছে। প্রতি বছর বিশ্বের কৃষিজমি থেকে কোটি কোটি টন কার্বন ডাই অক্সাইড মেশে বায়ুমণ্ডলে। কার্বন ডাই অক্সাইড বায়ুমণ্ডলে না ছেড়েও কৃষিজমির উর্বরতা বাড়িয়ে নয়া চাষের পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন এক বাঙালি বিজ্ঞানী। রয়্যাল কলেজ অব লন্ডনের ডঃ অর্ণব মজুমদারের এই গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন জার্নাল অ্যাডভান্স সায়েন্সে।
অর্ণব জানিয়েছেন, বর্তমানে কৃষিকাজ হয় দু’রকম পদ্ধতিতে। একটা হল প্রথাগথ ডিপ টিলেজ। এই পদ্ধতির চাষে লাঙল বা টিলার চালিয়ে জমি আলগা করা হয়। এতে ফসলের পুষ্টিগুণ বাড়ে। তবে, এই পদ্ধতিতেই মাটির কার্বন ডাই অক্সাইড মেশে বায়ুমণ্ডলে। আরেকটি হল নো টিলেজ পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে বায়ুমণ্ডলে সেভাবে কার্বন ডাই অক্সাইড না মিশলেও এতে ফসলের শিকড় পুষ্টিগুণ থেকে বঞ্চিত হয়। তাই এর মাঝামাঝি একেবারে অভিনব পদ্ধতিতে কৃষিকাজের সুপারিশ করা হয়েছে। এটিকে বলা হচ্ছে ফারো টিলেজ পদ্ধতি।
এই পদ্ধতিতে মূলত একটি বেদির মতো সারিতে ফসল বোনা হয়। তবে, তাতে লাঙল দেওয়া হয় না। দু’টি সারির মধ্যে থাকে একটি নালা বা ফারো। তাতে জল দেওয়া থাকে। মাঝে মধ্যে নালাগুলি খুলে মাটি আলগা করে দেওয়া হয়। তাতে মাটিতে বায়ু চলাচল এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের স্থান পরিবর্তনের সুবিধা হয়। নদীয়া জেলার ১২টি মাঠে এই পরীক্ষা করা হয়। ধানের উপরে তা প্রয়োগ করে দেখা গিয়েছে, মাটি থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ কমেছে। এর পরিমাণ প্রায় ৪০ শতাংশ কম। আবার উৎপাদন হয়েছে হেক্টর প্রতি ৫.১৮ টন ফসল। সেটি নো টিলেজের চেয়ে ১৫ শতাংশ বেশি এবং ডিপ টিলেজের প্রায় সমান।
সব মরশুমে এই পদ্ধতিতে চাষ করার জন্য সেচ প্রক্রিয়াতেও সামান্য পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। এটিকে বলা হচ্ছে অল্টারনেটিভ ওয়েট অ্যান্ড ড্রাই পদ্ধতি। তাতেও গড়ে ১৫ শতাংশ কম কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ হবে বলে বিজ্ঞানীদের দাবি। এই গবেষণায় অর্ণবকে সহযোগিতা করেছেন ব্রিটেন, ভারত এবং দক্ষিণ কোরিয়ার একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা।