


সংবাদদাতা, হলদিয়া: হলদিয়া মেডিকেল কলেজে সদ্য পাশ করা এমবিবিএস ও এমডি চিকিৎসকদের শপথবাক্য পাঠ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। চিকিৎসা পরিভাষায় ওই অনুষ্ঠানের নাম ‘হিপোক্রেটিক ওথ টেকিং সেরিমনি’। ডাক্তারি পাঠের শেষে কর্মজীবনে প্রবেশের শুরুতে ওই শপথ নিতে হয় সমস্ত নবীন চিকিৎসককে। ৮মে শুক্রবার হলদিয়া মেডিকেলে ওই অনুষ্ঠান হয়। আইকেয়ার ইন্সটিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস অ্যান্ড রিসার্চ(ইমসার) অর্থাৎ হলদিয়া মেডিকেল কলেজ থেকে এবার এমবিবিএস ও এমডি মিলিয়ে ১৩৭জন চিকিৎসক পাশ করেছেন। এঁদের শপথবাক্য পাঠের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় হলদিয়ার টাউনশিপে বন্দর কর্তৃপক্ষের বিবি ঘোষ অডিটোরিয়ামে।
এবার সপ্তম ব্যাচের এমবিবিএস পড়ুয়ারা পাশ করে বেরলেন। সদ্য পাশ করা ওই ডাক্তাররা ২০২০-’২১ সালের এমবিবিএসের ব্যাচ ছিলেন। একইসঙ্গে ২০২২-২৫ সালের এমডি ও এমএসের ব্যাচও পাশ করে বেরিয়েছে। তাঁরা ১৬টি বিষয় নিয়ে হলদিয়া মেডিকেল কলেজে এমডি ও এমএস পড়েছেন। কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০১১ সাল থেকে এপর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৭০০ এমবিবিএস ও এমডি ডাক্তার পাশ করে বেরিয়েছেন। ওইদিন শপথ অনুষ্ঠানের সূচনা করে কলেজের চেয়ারম্যান লক্ষ্মণ শেঠ বলেন, এতজন ছাত্র একসঙ্গে ডাক্তার হয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন, আমি ভীষণ আপ্লুত। কাশ্মীর থেকে তামিলনাড়ু, অসম, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্রের মতো দেশের ১২-১৪টি রাজ্য থেকে হলদিয়া মেডিকেল কলেজে ছাত্ররা পড়তে আসেন। শুধু হলদিয়া নয়, রাজ্যের কাছেও এটি গর্বের বিষয়। ডাক্তারি পাশ করে তাঁরা নিজের রাজ্যে সুনাম অর্জন করবেন, এটাই আমাদের আশা। তরুণ চিকিৎসকদের তিনি গরিব ও সাধারণ মানুষের পাশে থাকার আবেদন করেন। এদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলেজের জয়েন্ট ম্যানেজিং ডিরেক্টর আশিস লাহিড়ি, আইকেয়ারের ভাইস চেয়ারম্যান সায়ন্তন শেঠ, কলেজের অন্যতম ডিরেক্টর সুদীপ্তন শেঠ, প্রিন্সিপাল শ্যামলচন্দ্র সরকার প্রমুখ। সদ্য পাশ করা ডাক্তারদের শপথ পাঠ করান কলেজের ডিন অব স্টুডেন্টস সুকান্ত সেন। এমবিবিএস এবং এমডি ও এমএস শিক্ষার্থী চিকিৎসকদের হাতে ডাক্তারি সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয় কলেজের পক্ষ থেকে। কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সদ্য পাশ করা এই ব্যাচের জুনিয়র ডাক্তার মধুশ্রুতি মুখোপাধ্যায় তাঁর একটি গবেষণাপত্রের জন্য জেনিভাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা(হু) আয়োজিত কনভেনশনে প্রশংসা পেয়েছেন। চলতি বছরের গত ফেব্রুয়ারি মাসে হু’র ১৫৮তম এগজিকিউটিভ বোর্ড মিটিংয়ে সারা বিশ্বের হাতে গোণা কয়েকজন জুনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে আমন্ত্রিত ছিলেন গবেষণাপত্রের জন্য। চিকিৎসায় ইমারজেন্সি অ্যান্ড অপারেটিভ কেয়ার এবং সামাজিক সংযোগ বিষয়ে তিনি সেখানে বক্তৃতা করেন।-নিজস্ব চিত্র