নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: নিউদিল্লি স্টেশনে পদপিষ্টের ঘটনা এবার উঠে এল সংসদেও। প্রসঙ্গ উঠতেই সোমবার মেজাজ হারালেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। বললেন, ঘটনার রাতে স্টেশনের কোনও সিসি ক্যামেরা বন্ধ হয়নি। আমার নিজের কাছেই তার ফুটেজ আছে। সেইসব আমি দেখেছি। ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে। ফলে এখানে কোনও রাজনীতি করার জায়গা নেই।
এদিন রাজ্যসভায় রেলওয়েজ সংশোধনী বিল, ২০২৫ পাস হয়েছে। সোমবার বেলা ২টো থেকে এই বিলের উপরই সংসদের উচ্চ কক্ষে আলোচনা শুরু হয়। তাতে অংশ নিয়েই আরজেডি এমপি মনোজ ঝা নিউদিল্লি স্টেশনে পদপিষ্টের ঘটনায় রেলমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ করেন। অভিযোগ করেন, প্রকৃত সত্য আড়াল করতেই সিসি ক্যামেরা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। আলোচনা শেষে জবাবি ভাষণে এরই তীব্র প্রতিবাদ করেন রেলমন্ত্রী। হারান মেজাজও। যদিও কবে নাগাদ এই ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট পেশ হবে, পদপিষ্টের প্রসঙ্গ উঠলেও এর কোনও উল্লেখ এদিন অশ্বিনী বৈষ্ণবের জবাবি ভাষণে ছিল না।
তৃণমূলের রাজ্যসভার সদস্য সুস্মিতা দেব বলেন, দুরন্ত এক্সপ্রেস রাজধানী ট্রেনের থেকেও দ্রুতগামী ছিল। সাধারণ মানুষের কথা ভেবেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এটির উদ্বোধন করেছিলেন। একইভাবে চালু করেছিলেন ইজ্জত পাসও। রেল সংশোধনী বিল, ২০২৫ কে অবিলম্বে সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানোর দাবি করেছে তৃণমূল। সুস্মিতা বলেন, শুধুমাত্র বন্দে ভারত স্কিম নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে রেলের যাত্রী সুরক্ষা ও নিরাপত্তার দিকেও নজর দেওয়া হোক। আলোচনায় অংশ নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুরন্ত এক্সপ্রেস ট্রেন চালুর প্রসঙ্গ তুলেছেন কংগ্রেসের বিবেক তংখাও। তাঁর ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, ট্রেন দুর্ঘটনার নৈতিক দায় নিয়ে পদত্যাগ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এমনকী নীতীশ কুমারও।
আলোচনার জবাবি ভাষণে অবশ্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রেলমন্ত্রিত্বের সময়কে কাঠগড়ায় তোলেন বৈষ্ণব। বলেন, ভারতীয় রেলের আধুনিকীকরণের কাজ শুরু হয়েছে ২০১৪ সালের পর। রেলে নিয়োগ কিংবা সুরক্ষা খাতে অর্থ বরাদ্দের মতো একাধিক গুরুতর বিষয়ে পূর্বতন ইউপিএ জমানার তুলনায় মোদি সরকার অনেক এগিয়ে রয়েছে।