• দাদা বদলেছে, কিন্তু দাদাগিরির উন্মাদনায় এতটুকু ভাটা পড়েনি। বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারের দোতলার পোর্টিকোয় হুডখোলা গাড়িতে দেবের প্রবেশ যেন মুহূর্তেই উৎসবের আবহ তৈরি করল। কালো ট্রাউজার্স, কালো ফুলহাতা শার্ট আর কালো ব্লেজারে সেজে ছোটোপর্দার নতুন ‘দাদা’ মঞ্চে উঠলেন নায়কোচিত আত্মবিশ্বাসে। দর্শকের উচ্ছ্বাসে তখন মুখর চারদিক।
পরিচালক অভিজিৎ সেনের হাত ধরে অনুষ্ঠানের সূচনা। তার পর একে একে মঞ্চে হাজির অতিথিরা। গানে গানে জমিয়ে দিলেন শান। আবেগের পারদ চড়ল প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় মঞ্চে উঠতেই। দেবকে বুকে জড়িয়ে ধরে যেন আনুষ্ঠানিক ভাবে নতুন ‘দাদা’-র হাতে দায়িত্ব তুলে দিলেন তিনি। হাসিমুখে বললেন, ‘দেব আমার ছোটো ভাই হতে পারে, কিন্তু এখন তো আমাদের সবার দাদা। ২০০৬ থেকে ২০২৬— টানা দু’দশক স্ক্রিন কাঁপিয়ে দেওয়া মুখ, এটা মুখের কথা নয়।’
মঞ্চে যোগ দিলেন ভারতীয় ফুটবলের অধিনায়ক সুনীল ছেত্রী। উপস্থিত ছিলেন শিল্পপতি চন্দ্রশেখর ঘোষ ও হর্ষবর্ধন নেওটিয়া। চন্দ্রশেখরের কথায়, ‘এ বারের দাদাগিরি নতুন প্রজন্মের উদ্যোগপতিদেরও অনুপ্রাণিত করবে।’ দেবকে ‘ম্যাগনেটিক পার্সোনালিটি’ বলে উল্লেখ করে হর্ষবর্ধন বলেন, ‘নতুন ভূমিকায় দেবকে স্বাগত।’
নতুন দাদার কাঁধে এখন প্রত্যাশার পাহাড়। সেই চাপ সামলানোর মন্ত্র কী? আত্মবিশ্বাসী দেবের জবাব, ‘আমি দাদা হতে চাই না, সবার বন্ধু হতে চাই। গত দশটি সিজনে ‘দাদাগিরি’ যে ভালোবাসা পেয়েছে, একাদশ সিজনেও সেই আশীর্বাদ চাই। ধৈর্য ধরে, ভালোবেসে দেখুন। ভালো লাগবেই।’ বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়েই শুরু হল দেবের ‘দাদাগিরি’র নতুন ইনিংস।
প্রিয়ব্রত দত্ত
ছবি: ভাস্কর মুখোপাধ্যায়