ভোপাল, ২৯ জুন: অভিনয়ের জন্য পরিচালকের কাছে স্বাক্ষর করেছিলেন চুক্তি পত্র। কথা ছিল শুটিং শেষে দেওয়া হবে ৫০ হাজার টাকা পারিশ্রমিক। সেই মতো চলে ৮ দিনের শুটিং। পরে টাকা চাইতেই অপরদিক থেকে এল অভিনেতাকে প্রাণনাশের হুমকি, বেধরক মারধর। সাম্প্রতি এমনই এক ঘনটায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দেশজুড়ে। ঘটনাটি ঘটেছে জনপ্রিয় হিন্দি সিনেমা 'লাপাতা লেডিজ'-এর পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করা সতেন্দ্র সোনির সঙ্গে।
অল ইন্ডিয়ান সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশনের দাবি সতেন্দ্রকে মধ্যপ্রদেশের মাইহারে 'পেড় পালখি' নামক এক ছবিতে অভিনয়ের জন্য ৫০ হাজার টাকা সাইনিং অ্যামাউন্ট দিয়ে ডাকা হয়। তিনি টানা আট দিন ছবির শুটিংও করেন। কিন্তু নির্ধারিত পারিশ্রমিক চাইতে গেলে ছবির পরিচালক পুষ্পেন্দ্র সিং তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেন পরিচালক। পাশাপাশি পরিচালক এবং তাঁর সহযোগীরা অভিনেতাকে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করেন বলেও অভিযোগ। এমনকি তাঁকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসা এক ব্যক্তিকেও মারধর করা হয়েছে বলে দাবি। আর এই সবকিছু তিনি সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমেও পোস্ট করেন। মুহূর্তের মধ্যে সেই ভিড়িও ভাইরাল হয়ে পড়ে নেট জগতে। সেই ভিডিওতে সতেন্দ্রকে কাঁদতে কাঁদতে অসহায় হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে হওয়া অন্যায় গুলি বলতে শোনা যায়। সতেন্দ্র বলেন, 'আমি মাইহারে পুষ্পেন্দ্র সিং পরিচালিত ‘পেড় পালখি’ ছবিতে কাজ করতে গিয়েছিলাম। উনি আমাদের সাইনিং অ্যামাউন্ট হিসেবে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন বাকি টাকা শুটিংয়ের সময় দিয়ে দেবেন। শুটিং শুরু হওয়ার আট দিন হয়ে গিয়েছিল। আমরা যখন টাকা চাই, তখন উনি আমাদের ব্যাগ গুছিয়ে হোটেল ছেড়ে চলে যেতে বলেন। এমনকি প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেন।' তিনি আরো বলেন, 'আমরা নিরাপদে মুম্বই পৌঁছে গিয়েছি। মাইহার পুলিশ আমাদের অনেক সাহায্য করেছে। আরও অনেক মানুষ আমাদের পাশে ছিলেন। ভয়াবহ অভিজ্ঞতা, তবে আমরা এখন মুম্বইয়ে ফিরে এসেছি।'
অল ইন্ডিয়ান সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশনের পরে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের যথাপোযথ শাস্তির আবেদন জানায়। তাছাড়াও এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মধ্যপ্রদেশ সরকারের কাছে একাধিক দাবি জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থা। সংগঠনের সভাপতি সুরেশ শ্যামলাল গুপ্ত মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের কাছে অবিলম্বে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার আবেদন করেছেন। সংগঠনের দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে‘পেড় পালখি’ছবির প্রযোজক, পরিচালক পুষ্পেন্দ্র সিং এবং অভিযুক্ত অন্যদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে এফআইআর দায়ের করে স্বচ্ছ তদন্ত শুরু করা, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রযোজক ও পরিচালককে মধ্যপ্রদেশে চলচ্চিত্র নির্মাণ ও শুটিং থেকে নিষিদ্ধ করা, রাজ্যের সব চলচ্চিত্র শিল্পী, টেকনিশিয়ান ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সতেন্দ্র সোনির আট দিনের কাজের বকেয়া পারিশ্রমিক দ্রুত মিটিয়ে দেওয়া।
জানাযায়, সতেন্দ্র আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারের সন্তান। সম্প্রতি ন্যায়বিচারের আবেদন জানিয়ে তাঁর প্রকাশ করা একটি আবেগঘন ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অভিনেতার বাবা গুরুতর অসুস্থ এবং তাঁর চিকিৎসার জন্যই বকেয়া পারিশ্রমিকের অর্থের প্রয়োজন ছিল।