নয়াদিল্লি: কলকাতা নাইট রাইডার্সের জয়রথ ছুটছে। টানা চার ম্যাচ জিতে প্লে-অফের সম্ভাবনাও জাগিয়ে তুলেছে শাহরুখ খানের ফ্র্যাঞ্চাইজি। অজিঙ্কা রাহানেদের পকেটে ১০ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট। বাকি আর চার ম্যাচ। প্রতিটিতে জিতলে পয়েন্ট হবে ১৭। সেক্ষেত্রে মিলে যেতে পারে প্লে-অফের টিকিট। এই পরিস্থিতিতে বুধবার রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে খেলবে কেকেআর। রায়পুর যতই আরসিবি’র দ্বিতীয় হোম গ্রাউন্ড হোক, কার্যত তা নিরপেক্ষ ভেন্যু। তাই রাহানেদের উপর চাপ অপেক্ষাকৃত কম। পাশাপাশি নাইটরা শেষ তিনটি ম্যাচ ইডেনেই খেলবে। ফলে ‘করব, লড়ব, জিতব রে’ সুরে মাতোয়ারা হওয়ার আশা থাকছেই।
চলতি আসরের শুরুর দিকে অবশ্য কোনোকিছুই ঠিকঠাক হচ্ছিল না সোনালি-বেগুনি জার্সিধারীদের। প্রথম ছয় ম্যাচে কোনো জয় আসেনি। বৃষ্টির দাক্ষিণ্যে জুটেছিল এক পয়েন্ট। তালিকার তলানিতে ছিল তারা। চুরমার হয়ে গিয়েছিল দলের মনোবল। ধেয়ে আসছিল সমালোচনার ঝড়। সেই কঠিন সময়েও নিজেদের উপর আস্থা হারায়নি নাইটরা। এমনটাই জানিয়েছেন অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন। দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে বল হাতে এক উইকেট ও ব্যাটে অপরাজিত ৩৩ করা অজি তারকা বলেছেন, ‘কখনও নিজেদের উপর বিশ্বাস হারাইনি। ক্রমাগত ব্যর্থতা সত্ত্বেও দুর্দান্ত ক্রিকেটীয় সংস্কৃতি ছিল শিবিরে। কাউকে দেখে বোঝাই যয়িনি যে, আমরা একের পর এক ম্যাচ হেরে যাচ্ছি। প্রত্যেকেই উদ্দীপ্ত ছিল। এর জন্য খেলোয়াড়দের পাশাপাশি কৃতিত্ব প্রাপ্য সাপোর্ট স্টাফদেরও। দলগত সংহতিতে ভর করে সেই কঠিন অবস্থা পেরিয়ে এসেছি। তবে আলাদাভাবে প্রশংসা করতে হবে বোলারদের। প্রতিযোগিতা জুড়েই ওরা ধারাবাহিক থেকেছ।’
সাফল্যের সরণিতে ফেরার রহস্য কী? গ্রিনের উত্তর, ‘আমরা সঠিক কম্বিনেশন খুঁজে পেয়েছি। কে কোথায় ব্যাট করলে দলের সর্বাধিক কাজে আসবে, তা বোঝা গিয়েছে। এর জন্য অবশ্য কয়েকটা ম্যাচ সময় লেগেছে। তবে শেষ পর্যন্দ ছন্দ ফিরে পাওয়াটাই বড়ো স্বস্তি।’ গ্রিনের নিজের পারফরম্যান্স নিয়েও চলছিল কাটাঁছেড়া। ২৫.২ কোটি টাকায় দলে আসা অজি ক্রিকেটার ক্রমাগত হতাশ করছিলেন। তবে সে জন্য কখনো তাঁর উপর চাপ দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন গ্রিন। তাঁর কথায়, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের উপর চাপ থাকবেই। আর একজন পেশাদার হিসেবে তা সামলে পারফরম্যান্স করা আবশ্যক।’
দিল্লির বিরুদ্ধে শুক্রবার যাঁর শতরানের সুবাদে ৩৪ বল বাকি থাকতে জয় এসেছে, সেই ফিন অ্যালেনের গলাতেও তৃপ্তি। তাঁর কথায়, ‘কয়েকটা উইকেট পড়ার পর দায়িত্বশীল হওয়া দরকার ছিল। টিকে থাকতে চেয়েছিলাম। আগের কয়েকটা ম্যাচে শুরুটা ভালো করেও বড় রান আসেনি। ফলে নিজের উপর চাপ বাড়ছিল। এই শতরানটা সেজন্যই বাড়তি আনন্দ দিচ্ছে। তবে আত্মতুষ্টিতে ভোগার প্রশ্ন নেই। সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ।’