সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: স্বাধীনতা আন্দোলনকে জোরদার করতে পূর্ব বর্ধমানের বার বার এসেছেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। কখনো চান্না আশ্রমে আবার কখনো কালনার মঠে গোপন বৈঠক করেছেন। স্বাধীনতা আন্দোলনের স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে দেওয়ার টিপস দিয়েছিলেন তিনি। একাধিকবার জেলায় এসে বৈঠক করার পরে ব্রিটিশ সৈন্যদের চোখে ধুলো দিয়ে ফিরে গিয়েছেন। নেতাজিকে নিয়ে এই জেলার আবেগ অন্যরকম। তিনি যে সমস্ত সামগ্রী এখানে এসে ব্যবহার করেছেন তা আজও সযত্নে সংরক্ষিত রয়েছে। আবার তাঁর জন্মদিনে প্রতিবছর মিষ্টি বিতরণ করতে ভোলেন না বর্ধমানের একটি প্রতিষ্ঠান। বর্ধমান থেকে কালনা কাটোয়া সর্বত্রই তার নানা স্মৃতি রয়ে গিয়েছে। সেই মানুষকে নিয়েই এক জনপ্রতিনিধি ক্রমাগত বিরূপ মন্তব্য করে চলায় ক্ষুব্ধ স্বাধীনতা সংগ্রামীদের এই জেলা। তারা বলছেন হয় তিনি ইতিহাস জানেন না,, না হলে জেনে শুনে ইতিহাস বিকৃতি করছেন।
গলসি চান্না আশ্রমে রাসবিহারী বসু, বটুকেশ্বর দত্তদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু। সেখানে ঘুরতে এসেছিলেন নিশা দাস নামে এক ছাত্রী। তিনি বলেন, নেতাজি আমাদের কাছে আবেগ। একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে তিনি কেন এমন মন্তব্য করছেন বোঝা যাচ্ছে না। মনে হয় ইতিহাস তাঁর ঠিকমতো জানা নেই। সরকার ব্যবস্থা না নিলে জেন জি রা প্রতিবাদ করবে। আরেক ছাত্রী অনুরাধা মহাপাত্র বলেন, আমার মনে হয় উনি নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সংসদ হয়ে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে ইতিহাস বিকৃতি করছেন। এটা কখনোই উচিত নয়। নতুন প্রজন্মের কাছে তিনি কখনই ভালো হতে পারবেন না। বেশ কিছুদিন ধরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় উত্তরবঙ্গের ওই ওই সংসদের নেতাজিকে নিয়ে নানা কথা শুনছি। আশ্চর্যজনকভাবে কাউকে প্রতিবাদ করতে দেখছি না। এটা কখনোই কাম্য নয়। পূর্ব বর্ধমান জেলা বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে স্বাধীনতা আন্দোলনের নানা সাক্ষী। কালনার জ্ঞানানন্দ মঠে এসে বৈঠক করেছিলেন নেতাজি। সেখানে তাঁর ব্যবহার করা চেয়ার খাট ডাইনিং টেবিল এখনো সযত্নে রয়েছে। বর্ধমান শহরেও একাধিকবার এসেছিলেন নেতাজি। এই জেলাতে জন্মেছেন বটুকেশ্বর দত্ত, রাসবিহারী ঘোষ, রাসবিহারী বসুর মতো মহান স্বাধীনতা সংগ্রামীরা। ভগত সিং এই জেলায় এসে আত্মগোপন করেছিলেন। এছাড়া আরও অনেকেই স্বাধীনতার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। সেই স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সম্পর্কে জনপ্রতিনিধিরা দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করাই জেলার বিশিষ্ট জনরাও হতাশ। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দিব্যেন্দু দাস বলেন, নেতাজি আমাদের অহংকার। তাঁর লড়াই যুব সমাজকে উৎসাহিত করে। তাঁর মতে স্বাধীনতা সংগ্রামী এগিয়ে না এলে দেশের স্বাধীনতা আসতে হয়তো আরও দেরি হতো। এই মহান মানুষদের প্রতি শ্রদ্ধা কোনো দিনই কমবে না। আগামী দিনের পথ চলার অনুপ্রেরণা জোগায় নেতাজি।