কাঠমাণ্ডু: আগুনে ঝলসে পার্লামেন্ট ভবনের দেওয়াল যেন পোড়া কয়লা! সিংহ দরবার, প্রেসিডেন্টের দপ্তর, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন, সুপ্রিম কোর্ট, নেতামন্ত্রীদের বাড়ি, পার্টি অফিস থেকে শপিং মল, হোটেল... সর্বত্র একই অবস্থা। আগুন নিভেছে। লুটপাটও শেষ। দমকল বাহিনী মোতায়েন। কিন্তু ইতিউতি ধোঁয়ার কুণ্ডলী পাক খেয়ে উপরে উঠছে এখনও। রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনার মধ্যেই গোটা নেপাল যেন এখন ধ্বংসপুরী! বুধবার সকাল থেকে কাঠমাণ্ডু ছিল কার্যত ধূ ধূ মরুভূমি। রাস্তাঘাট ফাঁকা। কে বলবে একদিন আগেও অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, লুটপাটের সাক্ষী থেকেছে হিমালয়ের কোলের এই শহর! মঙ্গলবার সারা দিনে দেশের ২৫টি জেল থেকে পালিয়ে গিয়েছে অন্তত ১৫ হাজার বন্দি। বাঁকে জেলায় একটি জেল ভেঙে পালানোর সময় পাঁচ নাবালক বন্দি পুলিসের গুলিতে মারা গিয়েছে। কোটেশ্বরে তিনজন পুলিস কর্মীকে খুনের অভিযোগ উঠেছে। শপিং মলে লাগানো আগুনে ঝলসে মৃত্যু হয়েছে এক তরুণীরও। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে এখন ৩০। যদিও আন্দোলন চলাকালীন হিংসা ও লুটপাটের দায় নিতে নারাজ ‘জেন জি’। যুব নেতৃত্বের দাবি, সুযোগ বুঝে কিছু সুবিধাবাদী ও দুষ্কৃতী ওইসব কাজ চালিয়েছে। ঘটনাচক্রে, বাংলাদেশেও গত বছরের অভ্যুত্থানের পর একইভাবে হিংসার দায় নিতে অস্বীকার করেছিল যুব নেতৃত্ব।
কাঠমাণ্ডুর নিউ বাণেশ্বর স্ট্রিট। মঙ্গলবার সবচেয়ে বড় বিক্ষোভের সাক্ষী থেকেছে এই এলাকা। এদিন ছিল সম্পূর্ণ উল্টোচিত্র। সকালে কয়েকজন ‘জেন জি’ স্বেচ্ছাসেবক বেরিয়ে ছিলেন রাস্তা পরিষ্কারে। বেলা বাড়তেই তাঁরাও উধাও হয়ে যান। মঙ্গলবার রাত থেকেই নেপালে নিরাপত্তার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে সেনাবাহিনী। জারি হয়েছে কার্ফু। সঙ্গে চলছে ধরপাকড় ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা। গাড়িতে কাউকে আসতে দেখলেই আইডি কার্ড দেখতে চাইছেন সেনা অফিসাররা। ফলে হিংসার বড় কোনও ঘটনা আর নতুন করে ঘটেনি। রাত পর্যন্ত ৩১টি অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিস। হিংসা ও লুটপাটে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২৭ জনকে।
রাজধানী শহরের সর্বত্রই সাধারণ মানুষকে বিনা প্রয়োজনে রাস্তায় বেরতে নিষেধ করছে সেনা। ফলে সকালে হাতে গোনা কিছু মানুষকে রাস্তায় দেখা যায় নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস সংগ্রহে। মোটের উপর প্রায় সব এলাকাই শুনশান। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে সেনার তরফে জারি করা বিবৃতিতে ছিল হুঁশিয়ারির সুর—‘কার্ফু চলাকালীন যেকোনও রকম বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, সরকারি ও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নষ্টের প্রচেষ্টাকে অপরাধমূলক কাজ বলে ধরে নেওয়া হবে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অ্যাম্বুলেন্স, দমকল, স্বাস্থ্যকর্মী ও নিরাপত্তা বাহিনী কার্ফুর আওতায় পড়বে না।’ আটকে পড়া বিদেশি নাগরিকদের নিকটবর্তী সিকিওরিটি পোস্টে যোগাযোগ করতে বলেছে সেনা। বিদেশি নাগরিকদের পাশে দাঁড়ানোর আর্জি জানানো হচ্ছে বিভিন্ন হোটেল, পর্যটন সংস্থার কাছে। তবে আটকে পড়া বিদেশিদের স্বস্তি দিয়ে ত্রিভুবন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে বিমান পরিষেবা চালুর খবর।