কাঠমাণ্ডু, ৮ সেপ্টেম্বর: রাজতন্ত্র ফেরানোর দাবিতে গত এপ্রিলে উত্তাল হয়ে উঠেছিল নেপাল। কড়া হাতে আন্দোলন দমন করে সেবার কোনওরকমে গদি সামলেছিল প্রধানমন্ত্রী কে পি ওলি। এর ঠিক পাঁচ মাসের মাথায় ফের চ্যালেঞ্জের মুখে তাঁর সরকার। এবার ইস্যু দুর্নীতি। সোমবার ফের উত্তাল হয়ে উঠেছে হিমালয়ের এই দেশে। রাজধানী কাঠমাণ্ডুর রাজপথের দখল কার্যত বিক্ষোভকারীদের হাতে চলে গিয়েছে। তাঁদের সিংহভাগ যুব। গায়ের জোরে পুলিশ আন্দোলন দমানোর চেষ্টা করলে দু’তরফে সংঘর্ষ বাধে। পুলিশের গুলিতে এখনও পর্যন্ত অন্তত ১৬ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। জখম ৮০।
বিক্ষোভের সূত্রপাত সরকারের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যানের সিদ্ধান্তকে ঘিরে। গত বুধবার রাত থেকে কার্যকর হয়েছে এই নির্দেশিকা। যার ফলে নেপালে অকেজো হয়ে পড়েছে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রামে, ইউটিউব সহ ২৬টি জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম। ওলি সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ফুঁসছে সেদেশের যুব সমাজ। তাদের বক্তব্য, পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতি গোপন করার জন্য সরকার সাধারণ মানুষের কণ্ঠরোধ করছে। যে কারণে কোপ এসে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার উপরে। এর প্রতিবাদে আজ কয়েক হাজার যুবক কাঠমাণ্ডুতে বিক্ষোভ দেখানোর জন্য জড়ো হয়েছিলেন। আর এই আন্দোলন ঘিরে রণক্ষেত্রের আকার নেয় গোটা এলাকা। পুলিসের গুলিতে প্রাণ হারান ২১ জন যুবক। পদত্যাগ করতে বাধ্য হন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পরে রাতের দিকে চাপে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ার উপর জারি করা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে কে পি ওলির সরকার।