Bartaman Logo
৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নেপালে বিপর্যয়: দায় হিমবাহের সঙ্গে পাহাড়ে বিরাট ভাঙনেরও, উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত ছবি বিশ্লেষণের পর নিশ্চিত বিশেষজ্ঞরা

৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তের ‘ল্যাংটাং লিরুং’ পর্বতের প্রায় সাড়ে ৫ হাজার মিটার উচ্চতায় শুধু হিমবাহ নয় পাহাড়ের একটা বড়ো অংশ ভেঙে নীচে নেমে এসেছিল।

নেপালে বিপর্যয়: দায় হিমবাহের সঙ্গে পাহাড়ে বিরাট ভাঙনেরও, উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত ছবি বিশ্লেষণের পর নিশ্চিত বিশেষজ্ঞরা
  • ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তের ‘ল্যাংটাং লিরুং’ পর্বতের প্রায় সাড়ে ৫ হাজার মিটার উচ্চতায় শুধু হিমবাহ নয় পাহাড়ের একটা বড়ো অংশ ভেঙে নীচে নেমে এসেছিল। প্রলয় কাণ্ডের পর স্যাটেলাইট থেকে তোলা সেখানকার ছবি বিশ্লেষণ করে তা জানতে পেরেছেন বিশেষজ্ঞরা। হিমবাহ ভাঙা জল, বরফের সঙ্গে প্রচুর পাথর, মাটি, পলি তীব্র গতিতে নীচে নেমে এসে ১২০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত ‘লেন্ডেখোলা’ নদীর উপত্যকায় পড়ার জন্য ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও বেড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর উপগ্রহ থেকে তোলা ছবিতে দেখা যাচ্ছে, হিমবাহটি যেখানে ছিল সেখানে পাথর খুবলে গিয়েছে। পাথরে ক্ষত রয়েছে। জিয়োলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার অবসরপ্রাপ্ত ডিরেক্টর ভূপদার্থবিদ শিখেন্দ্র দে জানিয়েছেন, নামী বহুজাতিক সংস্থার উপগ্রহ ছবিতে আরও দেখা গিয়েছে, জুলাই মাসেই ওই হিমবাহের বরফ বেশ ভঙ্গুর-বেসামাল অবস্থায় ছিল। আগামী দিনের নতুন উপগ্রহ ছবি বিশ্লেষণ করে আরও তথ্য মিলবে।
এভাবে বরফের স্তূপ, পাথর নেমে এল কেন? তার ব্যাখ্যাও দিচ্ছেন ভূতত্ত্ববিদরা। হিমবাহকে পাহাড়ের  পাথরের সঙ্গে ধরে রাখে ‘পারমাফস্ট’। এটা নুড়ি, পাথর প্রভৃতি দিয়ে তৈরি সামগ্রী যা সিমেন্ট বা আঠার মতো কাজ করে। এগুলি হিমশীতল কঠিন অবস্থায় থাকে। এই পারমাফস্ট গলে যাওয়ার ফলে বরফের সঙ্গে পাহাড়ের শিলা পাথরের বন্ধন আলগা হয়ে যায়। বহুদিন ধরে এই প্রক্রিয়া চলতে চলতে একসময় পাথরসহ বিশাল হিমবাহটি ভেঙে পড়ে নীচে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই হিমবাহটি অত্যন্ত খাড়া অবস্থায় ছিল। ফলে বাঁধন আলগা হতেই নীচে পড়ে যাওয়া আরও সহজ হয়েছে। পারমাফস্ট কেন আলগা হল তার কারণ হিসাবে উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রভাব থাকতে পারে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। উষ্ণতার জন্য পারমাফস্ট দ্রুত গলতে পারে। বিশ্ব উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের জন্য হিমালয়সহ  গোটা বিশ্বে হিমবাহ গলার প্রক্রিয়া দ্রুত হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা অনেকদিন ধরেই বলছেন। এর জেরে হিমবাহ সংলগ্ন লেক থেকে বিপুল জলরাশি বেরিয়ে এসে অনেক বিপর্যয় ঘটিয়েছে, যাকে গ্লোবাল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড (গ্লফ) বলা হয়। নেপালের এই বিপর্যয় অবশ্য গ্লফ নয়, সরাসরি হিমবাহ ভেঙে পড়ে হয়েছে। তবে অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ উষ্ণায়নের থিয়োরি দিলেও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ মাইকেল পল সিরাল মনে করেন, হিমালয়ের ভূগর্ভস্থ প্লেটের ক্রমাগত নড়াচড়ার জেরে এটা হতে পারে। তবে ওই এলাকায় নির্মীয়মাণ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র বা অন্যকোনো নির্মাণ কাজের জন্য হিমবাহ বিপর্যয় হয়েছে, এটা আপাতত মনে করছেন না অনেক বিশেষজ্ঞ।

Advertisement

 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ