নয়াদিল্লি: বিপর্যয়ে নেপাল বিধ্বস্ত হলে ভারতও বিপদ এড়াতে পারবে না। ভয়াবহ হড়পা বানের আবহে কার্যত এই বার্তাই দিলেন নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানেল। রাজনৈতিক মতবিরোধ পাশে সরিয়ে পরিবেশ রক্ষায় সহযোগিতার আহ্বান জানালেন তিনি। বললেন, ‘হিমালয়ে পরিবেশের স্বাস্থ্যে অবনতি হলে তা ভারত ও নেপাল, দুই দেশের জন্যই বিপদের।’ খানেলের কথায়, ‘হিমালয়ে যা গলে, তা সমুদ্রে গিয়ে মেশে।’ ঘটনাচক্রে, গতকাল নেপালে প্রাণঘাতী হড়পা বানের জেরে ভারতের দুই রাজ্য বিহার ও উত্তরপ্রদেশে সতর্কতা জারি করেছিল প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার একটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে খানেল বলেন, ‘নেপাল ও ভারতের সম্পর্ক বোঝাতে গিয়ে আমরা সর্বদা রুটি-বেটি, সীতা-রাম নিয়েই আলোচনা করেছি। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সব সময় ধর্মীয় ও সভ্যতাগত সংযোগই বড়ো ভূমিকা নিয়েছে। কিন্তু এই সম্পর্ককে পরিবেশ রক্ষার দৃষ্টিভঙ্গি থেকেও নতুন চেহারা দিতে হবে আমাদের।’ কিন্তু কেন একথা বলছেন নেপালি বিদেশমন্ত্রী? খানেলের ব্যাখ্যা, ‘হিমালয়ে যা-ই গলুক না কেন, তা সমুদ্রে গিয়ে মেশে। বুধবার আমরা চোখের সামনে তা সরাসরি দেখেছি। হিমালয়ের নেপাল-চীন সীমান্ত অঞ্চলে ফাটলের ফলে সৃষ্ট জলধারা তীব্র বেগে নীচের দিকে ধেয়ে এসে নেপালের বিভিন্ন এলাকাকে বিধ্বস্ত করেছে। সৌভাগ্যবশত এক্ষেত্রে ওই জলধারা আরও নীচে নেমে ভারতে বিপর্যয় ঘটায়নি বটে, তবে অতীতে এমন ঘটনা ঘটেছে। ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে।’ সেই আবহেই খানেল বলেন, ভারত, চীন, নেপাল ও ভুটান পরিবেশগতভাবে পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত। হিমালয়ের পরিবেশরক্ষার উপর আমাদের প্রত্যেকের অস্তিত্ব নির্ভর করছে। রাজনৈতিকভাবে বিরোধ থাকতে পারে, তবে তা পাশে সরিয়ে আমাদের একযোগে কাজ করতে হবে।