সংবাদদাতা, ধূপগুড়ি: বন্ধুদের জানিয়ে মাকে খুন! এরপর বাবাকে ডেকে এনে বাবাকেও খুন। চিৎকার শুনে জেঠিমা ও জেঠতুতো বোন ছুটে এলে তাঁদেরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপের পর কোপ। চুপচাপ থাকা দশম শ্রেণির ছাত্রের নেশার ঘোরে এমন কাণ্ড দেখে আতঙ্কিত প্রতিবেশীরা। এখনও বাড়িতে পড়ে রয়েছে জেঠতুতো বোনের কেটে যাওয়া রক্তমাখা কয়েকটি আঙুল। চোখের সামনে এমন নৃশংস ঘটনার সাক্ষী থাকবে তা মানতে পারছেন না কেউই। এই রক্তাক্ত ঘটনার পিছনে মোবাইল গেমকেই দায়ী করছেন আত্মীয়রা।
ধূপগুড়ির পুরান শালবাড়ি সংলগ্ন জুড়াপানি এলাকার এক ইলেকট্রিক মিস্ত্রির একমাত্র ছেলে এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে। পশেই তার জ্যাঠার বাড়ি। সোমবার রাতের সেই বিভীষিকা যেন ২৪ ঘণ্টা পর মঙ্গলবারও এলাকাবাসীর চোখে ভাসছে। অভিযোগ, ওই কিশোর আচমকাই মদ্যপ অবস্থায় বাড়িতে ঢুকে প্রথমে মায়ের উপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এরপর ফোন করে বাবাকে বাড়িতে ডেকে আনে। বাবা এলে তাঁকেও এলোপাথাড়ি দা দিয়ে মাথায়, ঘাড়ে কোপায়। রক্তাক্ত দম্পতির চিৎকারে কেঁপে ওঠে গোটা বাড়ি। ছুটে আসেন পাশের বাড়ির জেঠিমা ও জেঠতুতো বোন। তাঁদের উপরও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় ছেলেটি। ততক্ষণে পাড়ার লোকজনও টের পেয়ে যান ওই বাড়িতে কিছু একটা অঘটন ঘটেছে। এদিকে, রক্তে ভেসে যায় ঘর। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে জুড়াপানির বাসিন্দাদের মধ্যে। প্রতিবেশীরা চিৎকার চেঁচামেচি শুনে সরকার বাড়িতে ছুটে এলেও পরিস্থিতির ভয়াবহতার কারণে কেউই সামনে এগনোর সাহস পাননি।
এরপর অভিযুক্ত বাড়ি থেকে বেরিয়ে উত্তর দিকে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর আহতদের ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। চিকিৎসকরা ওই কিশোরের মাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বাবাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জলপাইগুড়ি মেডিকেল কলেজে পাঠানো হলে পথেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে। বাকি দুই আহত জেঠিমা ও তাঁর মেয়ে বর্তমানে শিলিগুড়ির একটি নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন।
এদিকে, ঘটনার পর অভিযুক্ত কিশোর বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে কীটনাশক পান করে। পরে রাস্তার পাশে তাকে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে জলপাইগুড়ি মেডিকেল কলেজে।
গোটা ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জুড়াপানিতে। কিশোরের এমন ভয়ঙ্কর কীর্তিতে হতবাক এলাকাবাসী। ঘটনার নেপথ্যে মোবাইল গেমের আসক্তি ও টাকার দাবি বলে জানিয়েছেন কিশোরের পিসতুতো দাদা। তিনিই ধূপগুড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে জানান, ভাই মাঝেমধ্যেই টাকার দাবি করত। ওই রাতেও পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেছিল। যা দিতে অস্বীকার করাতেই মদ্যপ অবস্থায় এমনটা ঘটিয়েছে।
কিশোরের পিসি বলেন, ভাইপো চুপচাপই থাকত। সেভাবে কথা বলত না। মোবাইলে গেম খেলত। মাঝেমধ্যে বাড়িতে এ নিয়ে অশান্তি হত। কিন্তু ছেলেটা এমন করবে ভাবতেই পারছি না। স্থানীয় বাসিন্দা আগুন রায় বলেন, ছেলেটি বাড়িতে এমন একটি কাণ্ড করতে চলছে সেটা বন্ধুদের মেসেজ করে বলেছিল। বন্ধুরা পারলে আটকাতে পারত। পুলিশ জানিয়েছে, ছেলেটি চিকিৎসাধীন। ঘটনার তদন্তে নামা হয়েছে। • ঘটনার পর থমথমে এলাকা। - নিজস্ব চিত্র।