নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও সংবাদদাতা, বারুইপুর: বেনজির। বারুইপুরের নাবালিকা গণধর্ষণ ও খুনের মামলায় ফের বদলে গেল তদন্তকারী অফিসার! এবার তদন্তভার দেওয়া হল বারুইপুর পুলিশ জেলার ডিএসপি পদমর্যাদার এক অফিসারকে। ঘটনার এক সপ্তাহের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার তদন্তকারী অফিসার বদলের ঘটনা ঘটল। কারণ কী? গাফিলতি? নাকি ঢিলেমি? জানা গিয়েছে, তদন্তের গতি নিয়ে পুলিশের উপর মহল সন্তুষ্ট ছিল না। ঢিলেমি এবং গাফিলতি, দুই অভিযোগই উঠেছে। তাই এই বদল। বারুইপুর পুলিশ জেলার পক্ষে এনিয়ে কোনো ব্যাখ্যা বা কারণ দেখানো হয়নি। এদিকে, বারুইপুরে তাণ্ডব-গণপিটুনির ঘটনায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে সিপিএম নেতা লাহেক আলিকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। রবিবার রাতেই তাঁকে নরেন্দ্রপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
সাধারণত কোনো অপরাধমূলক ঘটনা ঘটলে তার তদন্তকারী অফিসার হন থানারই এসআই বা আইসি। বারুইপুর কাণ্ডে প্রথমে দিগন্ত মণ্ডল নামে এক সাব ইনস্পেক্টরকে তদন্তকারী অফিসারের দায়িত্বভার দেওয়া হলেও পরে তাঁকে সরিয়ে থানার তৎকালীন আইসি জয়ন্ত পোদ্দারকে ‘আইও’ করা হয়। কিন্তু এবার তাঁকেও তদন্তকারী অফিসারের দায়িত্ব থেকে সরানো হল। থানার কোনো অফিসারের উপরই কি তাহলে ভরসা রাখতে পারছে না পুলিশের উপর মহল? সেই কারণেই পুলিশ জেলার ডিএসপি পদমর্যাদার একজনকে ইনভেস্টিগেটিং অফিসার করা হল? এমন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। একটি সূত্র বলছে, যে সব পুলিশকর্মী ও আধিকারিকের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছিল, তাঁদের মধ্যে তৎকালীন আইসিও রয়েছেন। ডিজির রিপোর্টের ভিত্তিতে সরকার তাঁদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়, এখন সবাই সেদিকেই তাকিয়ে। তাই এই বদল করা হল বলে মনে করা হচ্ছে।
এরইমধ্যে নাবালিকাকে গণধর্ষণ-নির্যাতন ও খুনের ঘটনায় সরাসরি যোগের কথা স্বীকার করে নিয়েছে অভিযুক্ত কবির মোল্লা। সূত্রের খবর, আনন্দ সরদার ও প্রভাস মণ্ডল আগেই স্বীকারোক্তি দিয়েছিল। এবার সেই তালিকায় জুড়ল কবিরের নামও। পুলিশ সূত্রে খবর, তদন্তকারীদের কাছে ধৃত স্বীকার করেছিল, ঘটনার দিন প্রভাস তাকে ডেকে পাঠিয়েছিল। বলেছিল, রেললাইনের ধারের ঠেকে বসে ফূর্তি হবে। তার জন্য মদ-গাঁজার ব্যবস্থা করতে বলেছিল প্রভাস। ওই ঝোপ-জঙ্গলে আসর বসানোর পর প্রভাসই ওই নাবালিকাকে নিয়ে আসে। বাকিদের মতো সেও ওই নাবালিকাকে ধর্ষণ করে এবং মারধরেও সঙ্গ দেয়। অচৈতন্য অবস্থায় ওই নাবালিকাকে বস্তায় ভরা ও পুকুরে ফেলার কাজে সাহায্য করেছিল, এই দাবি সে করেছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, ঘটনার পর কবির ট্রেনে শিয়ালদহ চলে আসে। সেখান থেকে আর একটি ট্রেন ধরে বসিরহাটে এক আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেয়। দালাল মারফত বাংলাদেশ পালিয়ে যাওয়ার ছক ছিল তার। এর মধ্যেই পুলিশ কবিরের ওই আত্মীয়ের বাড়ির ঠিকানা জোগাড় করে সেখানে পৌঁছে তাকে গ্রেপ্তার করে।
অন্যদিকে, সূর্যপুরে গণপিটুনিতে ইন্দ্রজিতের মৃত্যুর ঘটনায় দত্তপুকুর থেকে এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতের নাম শামিম আলি খান। তার বাড়ি সূর্যপুরেই। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার দিন ধৃত যুবক ইন্দ্রজিৎকে হাত ধরে টানতে টানতে সে নিয়ে এসেছিল। ভিডিয়ো ফুটেজ দেখে তাকে চিহ্নিত করা হয়। পাশাপাশি, ভাঙচুরের ঘটনায় আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রাতে লাহেকের গ্রেপ্তারির পর গণপিটুনি ও ভাঙচুরের ঘটনায় সব মিলিয়ে ধৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ৪১।