


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: মেডিকেলের প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-ইউজির প্রশ্ন ফাঁস মামলায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বিরুদ্ধে ‘স্বাধিকার ভঙ্গে’র (প্রিভিলেজ) নোটিস দিলেন কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশ। বিজেপি বিরোধীরা প্রশ্ন তুলল, ২০২৪ সালেই নিটের প্রশ্ন ফাঁস ইস্যুতে সতর্ক করার পরেও সরকার কেন সচেতন হয়নি? এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে হবে না বলে আশ্বাস দেওয়ার পরেও কেন তা রোখা যাচ্ছে না? সরব বিরোধীরা।
শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান গত ১৫ মে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বেফাঁস মন্তব্য করেছেন বলেই জয়রাম রমেশের দাবি। তাঁর মন্তব্য, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)র সম্পর্কে শিক্ষা সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটি আগেই সতর্ক করেছিল। তবে সেই রিপোর্ট গ্রাহ্য করেনি মোদি সরকার। সেই প্রসঙ্গেই সাংবাদিক সম্মেলনে মন্ত্রী বলেছিলেন, সংসদীয় কমিটিতে বিরোধী দলের সদস্যরা রয়েছেন। তাই তাঁদের দেওয়া রিপোর্ট নিয়ে কোনো কথা বলব না।
আর মন্ত্রীর এই মন্তব্যকেই স্বাধিকার ভঙ্গের অস্ত্র হিসাবে হাতে পেয়েছেন জয়রাম। রাজ্যসভার চেয়ারম্যান তথা উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণানকে সোমবার চিঠি দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, সংসদীয় কমিটিকে অপমান করাই নয়। আদতে সংসদকেই অসম্মান করেছেন মন্ত্রী। সংসদীয় কমিটির মর্যাদাকে অস্বীকার করছেন। যা মোটেই বাঞ্চনীয় নয়। তাই ধর্মেন্দ্র প্রধানের বিরুদ্ধে স্বাধিকার ভঙ্গের প্রক্রিয়া শুরু করতে অনুরোধ করেছেন রাজ্যসভায় কংগ্রেসের মুখ্য সচেতক জয়রাম রমেশ।
অন্যদিকে, সংসদের ২০২৪ সালের এক নথি বলছে, ১১ জন বিরোধী দলের সাংসদ সরকারকে নিটের প্রশ্ন ফাঁস ইস্যুতে সওয়াল করেছিলেন। সরকারের কাছে জানতে চেয়েছিলেন প্রশ্ন ফাঁসে কী ব্যবস্থা নিচ্ছে? জবাবে সরকারের আশ্বাস ছিল, উচ্চস্তরের কমিটি গড়ে তদন্ত হবে। ২০২৪ সালের ২১ এপ্রিল ওই কমিটি মন্ত্রকের কাছে রিপোর্টও জমা করেছে। কিন্তু তারপরও কেন ফের নিটের প্রশ্ন ফাঁস? সওয়াল বিরোধীদের।