Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নদীর পুনরুজ্জীবন ও ভাঙন রুখতে বাজেট বরাদ্দ ৪০০ কোটি

নদীর পুনরুজ্জীবন ও ভাঙন রুখতে বাজেট বরাদ্দ ৪০০ কোটি
  • ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলার নদীগুলির পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে রাজ্য বাজেটে নতুন প্রকল্প ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। বাজেট বক্তব্যে তাঁর বার্তা, ‘সুসংহত সামগ্রিক পরিকল্পনার মাধ্যমে নদীর পুনরুজ্জীবন সম্ভব।’ নদী বাঁচাও আন্দোলনের কর্মী থেকে পরিবেশপ্রেমীরা সরকারের এই দৃষ্টিভঙ্গিকে অত্যন্ত ইতিবাচক বলে মনে করছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকল্পটির নাম দিয়েছেন ‘নদী-বন্ধন’। আগামী অর্থবর্ষের জন্য এই প্রকল্পে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, গঙ্গা-পদ্মার ভাঙন রোধে ‘প্রকৃতিভিত্তিক’ সমাধানের জন্য মাস্টারপ্ল্যান করা হয়েছে। এর পাশাপাশি পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান খাতে আগামী অর্থবর্ষে বরাদ্দ করা হয়েছে ৫০০ কোটি টাকা। 
Advertisement
বাজেট বক্তব্যে বলা হয়েছে, এই রাজ্যে তিনটি অববাহিকা ও ৩৯টি উপ অববাহিকা ছাড়াও রয়েছে বহু জলাভূমি। এই প্রকল্পে নদী ও জলাভূমির মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে সাধারণ মানুষের জীবিকার সুযোগ তৈরি করা হবে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও রূপরেখা নেওয়া হবে।’ বাজেট ভাষণে নদী ভাঙনের সমস্যাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়েছে, ফরাক্কা বাঁধের নির্মাণ ভাঙন সমস্যা বাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে মানুষের জীবন-জীবিকা ও সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে। তার প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। হাইড্রোলজিক্যাল মডেল ও তার প্রুফ অব কনসেপ্ট হবে সেই পরিকল্পনার ভিত্তি। 
রাজ্যের সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইঞা বলেন, ‘বন্যাকবলিত জেলা, নদীভাঙন প্রবণ জেলাগুলির জন্য নদী-বন্ধন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৫ সাল থেকে কেন্দ্রীয় সরকার একটি টাকাও ভাঙন প্রতিরোধের জন্য দেয়নি। মুখ্যমন্ত্রী ঐতিহাসিক প্রকল্প নিয়েছেন। এর ফলে নদী পুনরুজ্জীবিত হবে। মানুষের জীবন-জীবিকার সুযোগ তৈরি হবে।’ ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে তিনি বলেন, ‘বারবার কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজে ছুটে গিয়েছেন। তারপরও এক টাকাও আসেনি। ইতিমধ্যে আমরা ৩৪১ কোটি টাকা খরচ করেছি। প্রায় ১৫০ কিলোমিটার নদী ড্রেজিং করেছি। এরপর যে পরিকল্পনা রয়েছে, তার জন্য আনুমানিক খরচ হবে দেড় হাজার কোটি টাকা। কয়েকটি টেন্ডার হয়েছে। কিছু জমি নিতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর আর্শীবাদে ও মানুষের সহযোগিতায় ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়িত হবে।’
নদী নিয়ে সরকারের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন পরিবেশকর্মীরা। ‘নদী বাঁচাও জীবন বাঁচাও’ আন্দোলনের তরফে তাপস দাস বলেন, ‘সরকার যে সুসংহত পরিকল্পনার কথা ভেবেছে, তাকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি।’ তাঁদের বক্তব্য, এই কাজের ক্ষেত্রে শুধু বিশেষজ্ঞ নয়, স্থানীয় কৃষিজীবী, মত্স্যজীবীদের সঙ্গেও কথা বলা দরকার।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ