


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: চাহিদা বেশি। কিন্তু সেই তুলনায় জোগান কম। তাই সাময়িক ‘গ্যাপ’ হয়েছে। ক্লাস নাইনের পাঠ্য পুস্তকের অভাব নিয়ে ক্রমবর্ধমান অভিযোগ এবার স্পষ্ট মেনে নিল এনসিইআরটি। ফলে চরম অস্বস্তিতে পড়ে গিয়েছে কেন্দ্রের মোদি সরকার। কারণ দু’দিন আগেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছিলেন শিক্ষামন্ত্রকের আধিকারিকদের সঙ্গে। এমনকি সেই বৈঠকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল এনসিইআরটি কর্তাদেরও। ওই বৈঠকে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী সাফ নির্দেশ দিয়ে জানিয়েছিলেন, বইয়ের অভাব নিয়ে আর কোনো অভিযোগ যেন না আসে। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও যেন পড়ুয়ারা দ্রুত পাঠ্যবই হাতে পায়। কিন্তু সেই নির্দেশে যে বিশেষ কাজ হয়নি, খোদ এনসিইআরটির বিবৃতিতেই তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।
১ মে, শুক্রবার এসংক্রান্ত একটি বিবৃতি জারি করা হয়েছে এনসিইআরটির পক্ষ থেকে। সেখানে অবশ্য তারা জানিয়েছে, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় পাঠ্যবই ছাপানোর কাজ চলছে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। যদিও এতে সংশ্লিষ্ট পড়ুয়া এবং অভিভাবকদের মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও অসন্তোষ কমার কোনো লক্ষণ নেই। পড়ুয়া এবং অভিভাবকদের একটি বড়ো অংশই প্রশ্ন তুলছে, এমন যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি কেন আগে তৈরি করা হল না? আগেভাগেই পদক্ষেপ করা হলে ছাত্রছাত্রীরা অযথা হয়রানির শিকার হত না। তাদের প্রশ্ন, ইতিমধ্যেই নতুন শিক্ষা বছর শুরু হয়ে গিয়েছে। এখনও অধিকাংশ পড়ুয়াই পাঠ্যবই হাতে পায়নি। এনসিইআরটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই ক্লাস নাইনের যাবতীয় বইয়ের ডিজিটাল ভার্সন পাঠানো হয়েছে। যেকোনো সময় পড়ুয়ারা তার সুবিধা নিতে পারে। এনসিইআরটির সেলস কাউন্টারগুলো যাতে শনিবার এবং রবিবারও খোলা থাকে, তা নিয়ে পদক্ষেপ করা হয়েছে। এরই পাশাপাশি যেসব স্কুল ‘বাল্ক’ বইয়ের অর্ডার দিচ্ছে, সেইসব বিদ্যালয়েও সরাসরি বই পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এনসিইআরটি জানিয়েছে, ২০২০ সালের জাতীয় শিক্ষা নীতি মেনেই যাবতীয় বই ছাপানো হয়েছে।