সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়, শিলিগুড়ি: গত ত্রিশ মাস ধরে উপাচার্য বিহীন অবস্থায় উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়। আর এই দীর্ঘ সময়কাল ধরে চরম সংকটের মধ্যে দিয়ে চলছে উত্তরের সব থেকে পুরনো এই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং জেলা ও উত্তর দিনাজপুর, কোচবিহারের একাংশ মিলিয়ে মোট ৫২টি কলেজ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে। এই সমস্ত কলেজের তিন লক্ষাধিক ছাত্রছাত্রী উপাচার্য না থাকার কারণে দীর্ঘ এই সময়কালের স্নাতকস্তরের শংসাপত্র পাচ্ছেন না। ১০ হাজার স্নাতকোত্তর স্তরের পড়ুয়া শংসাপত্র পাচ্ছেন না। শুধু তাই নয়, আটকে আছে ৩০০ পিএইচডি প্রাপকের শংসাপত্র প্রদান।
পিইচডি করে যাঁরা চাকরি করতে যান, তাঁদের চাকরির ক্ষেত্রে অনেক সময়ই ছ’মাসের মধ্যে শংসাপত্র দেখানোর সময়সীমা দেওয়া হয়। কিন্তু, এনবিইউ-এর ৩০০ পিএইচডি প্রাপক সেই শংসাপত্র পাচ্ছেন না। এই সমস্ত জটিলতা সৃষ্টির একটাই মাত্র কারণ দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো স্থায়ী উপাচার্য নেই।
২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে শেষবার সমাবর্তন হয়েছিল। অর্থাৎ, সাত বছর ধরে উত্তরের এই প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে সমাবর্তনের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান আটকে রয়েছে। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই পিএইডির শংসাপত্র প্রদান করা হয়। সেটিও আটকে আছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, উপাচার্য নিয়োগ না হওয়ার কারণে পূর্বতন সরকারের আমলে একটি মামলা হয়েছিল। দেশের শীর্ষ আদালতে তিনটি প্যানেল তৈরি হয়। ওই প্যানেল থেকে প্রথমবার এক প্রাক্তন অধ্যাপকের নাম সুপারিশও করা হয়েছিল। যেহেতু তিনটি প্যানেল ও শীর্ষ আদালতের জোরালো সুপারিশ ছিল না, তাই বর্তমান সরকার পুনর্বিবেচনা করার জন্য আবারও বিষয়টি নিয়ে শীর্ষ আদালতে গিয়েছিল। কিন্তু তার আগেই শীর্ষ আদালতে একটি ‘ক্যাভিয়েট’ দায়ের রয়েছে, তাই পুরো বিষয়টিই এখনও বিচারাধীন।
উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগ্ম রেজিস্টার স্বপন রক্ষিত বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নেই। তার ফলে সবস্তরের শংসাপত্র প্রদানই আটকে রয়েছে। এর ফলে ছয় জেলার কলেজের স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও এখানকার পিএইচডি প্রাপকরা শংসাপত্র পাচ্ছেন না। বিশ্ববিদ্যালয়কে সচল রাখতে যতটুকু রুটিন কাজ করার ততটুকুই করে চলেছি। উপাচার্য নিয়োগের বিষয়টি শীর্ষ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তাই অপেক্ষা করা ছাড়া এখন আর কোনো উপায় নেই।
এতো বড়ো একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বছরের পর অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে থাকলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে বলে মনে করছেন তথ্যাভিজ্ঞমহল। পঠনপাঠন ও প্রশাসনিক কাজকে সচল রাখতে যেটুকু জরুরি সেটুকুই চালাচ্ছেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্টার, যুগ্ম রেজিস্টার সহ অন্য আধিকারিকরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্ট, কাউন্সিল, পিএইচডি, শিক্ষক সংক্রান্ত বহু সিদ্ধান্ত তাই থমকে রয়েছে।