‘জাগরণ’ ছবির সেই দুর্ভিক্ষপীড়িত শীর্ণ চরিত্রটি থেকে পরবর্তীতে রসেবশে থাকা বাঙালির ট্রেডমার্ক সংলাপ ‘মাসিমা, মালপো খামু’ একটা ঐতিহাসিক যাত্রাপথের দ্যোতক। যে পথে অননুকরণীয় ‘স্ল্যাপস্টিক’ অভিনয় শৈলীর পাশাপাশি পৃথিবীর বুকে টিকে থাকা মানব জীবন নিয়ে ছিল তাঁর সুগভীর মননশীলতা। পর্দার বাইরেও অভিনেতার সেই মননশীলতার ক্যানভাস বিপুলায়তন। দাদুর দেওয়া সাম্যময় নামটিকে সার্থক করে প্রকৃত সাম্যবাদী হয়ে ওঠা থেকে নাবালক বয়সেই সশস্ত্র বিপ্লবীদের সঙ্গে ওঠাবসা। এমনকী মৃত্যুশয্যাতে মেয়ে বাসবীর বাল্যবন্ধু রোমি চৌধুরীর উদ্দেশে সেই অমল রসবোধ, ‘বাম্পার টু বাম্পার হইয়া, সিগন্যালে খাড়ায়ে আছি, সিগন্যাল সবুজ হওনের অপেক্ষা, তাইলেই...!’ এমন এক কিংবদন্তির কর্ম ও চেতনাকে একশো তিরিশ মিনিটের পরিসরে একটি কল্পকাহিনির বোতলে বন্দি করতে হলে লেখক, পরিচালক ও অভিনেতাদের তরফ থেকে একটি আন্তরিক ও অতিমানবিক যৌথ প্রয়াসের দরকার হয়। সৌভাগ্যক্রমে চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক কৃষ্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায় ও অভিনেতা শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়ের যুগলবন্দিতে সেই আন্তরিকতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সমকালে ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া সফল।
Advertisement
‘যমালয়ে জীবন্ত মানুষ’ ছবিতে দেবলোকের কর্মীদের কিছু কর্তব্য বিভ্রাটে ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় অভিনীত সিধু চরিত্রটিকে যেসব বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছিল, হুবহু সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটে সমকালীন বিজ্ঞানী সাম্যময় ব্যানার্জির (অম্বরীশ ভট্টাচার্য) ক্ষেত্রে। সমনামীর একই ভাগ্য বিপর্যয়ে ব্যথিত ভানু (শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়) এরপর এমন এক আন্দোলনের সূচনা করেন, যা স্বর্গলোক ও মর্ত্যলোকের সীমানা মুছে দেয়। কিন্তু বর্তমান ছবিটিকে আগের ছবির সিক্যুয়েল ভাবলে ভুল হবে। এই ছবি ভানুর জীবনদর্শনের ছবি। যে দর্শন দিয়ে নিজের সময়ে পর্দা ও বাস্তবকে আলোকিত করতেন তিনি, তা দিয়েই সমকালের উদ্দেশে কিছু বার্তা দিয়েছেন। তাই ভানু যমালয়ে থেকেও এখনও ‘জীবন্ত’ বা সমকালীন।
ভানুর চরিত্রে সফল চরিত্রায়ণ করেছেন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়। চরিত্রের ম্যানারিজম ও বাচনভঙ্গির মতো বহিরঙ্গকে স্পর্শ করেই থেমে থাকেননি, ভানুর রসবোধ ও জীবনবোধকেও আগাগোড়া একনিষ্ঠ ভাবে অনুসরণ করেছেন শাশ্বত। ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ ছবিতে সুচিত্রা সেন অভিনীত রমলা চরিত্রের পুনর্গঠনে অনবদ্য দর্শনা বণিক। শাশ্বত-অম্বরীশ জুটি কোনও ধ্রুপদী সাঙ্গীতিক যুগলবন্দির চেয়ে কোনও অংশে কম নন।
মানস গঙ্গোপাধ্যায় ও ঋষি রায়চৌধুরীর সিনেমাটোগ্রাফি এবং অর্ঘ্যকমল মিত্রের সম্পাদনা শিল্প রসোত্তীর্ণ। রাজা নারায়ণ দেবের সঙ্গীত মনোগ্রাহী। ‘আশিতে আসিও না’ ছবিতে মান্না দে ও রুমা গুহঠাকুরতার দ্বৈত কণ্ঠে ‘তুমি আকাশ এখন যদি হতে’ গানটির অনুকরণে রাঘব চট্টোপাধ্যায় ও জিনিয়া রায়ের গাওয়া ‘যদি রূপের সাগর’ গানটি বেশ উপভোগ্য।
ভানুর চরিত্রে সফল চরিত্রায়ণ করেছেন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়। চরিত্রের ম্যানারিজম ও বাচনভঙ্গির মতো বহিরঙ্গকে স্পর্শ করেই থেমে থাকেননি, ভানুর রসবোধ ও জীবনবোধকেও আগাগোড়া একনিষ্ঠ ভাবে অনুসরণ করেছেন শাশ্বত। ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ ছবিতে সুচিত্রা সেন অভিনীত রমলা চরিত্রের পুনর্গঠনে অনবদ্য দর্শনা বণিক। শাশ্বত-অম্বরীশ জুটি কোনও ধ্রুপদী সাঙ্গীতিক যুগলবন্দির চেয়ে কোনও অংশে কম নন।
মানস গঙ্গোপাধ্যায় ও ঋষি রায়চৌধুরীর সিনেমাটোগ্রাফি এবং অর্ঘ্যকমল মিত্রের সম্পাদনা শিল্প রসোত্তীর্ণ। রাজা নারায়ণ দেবের সঙ্গীত মনোগ্রাহী। ‘আশিতে আসিও না’ ছবিতে মান্না দে ও রুমা গুহঠাকুরতার দ্বৈত কণ্ঠে ‘তুমি আকাশ এখন যদি হতে’ গানটির অনুকরণে রাঘব চট্টোপাধ্যায় ও জিনিয়া রায়ের গাওয়া ‘যদি রূপের সাগর’ গানটি বেশ উপভোগ্য।
প্রিয়রঞ্জন কাঁড়ার



