নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রয়াত নকশাল আন্দোলনের অন্যতম মুখ, চিন্তক আজিজুল হক। সোমবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ সল্টলেকের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি ৮৫ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বেশ কিছুদিন হল তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। হাসপাতাল সূত্রে খবর, পরে চিকিত্সাধীন থাকার সময়েই নিউমনিয়ায় আক্রান্ত হন।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স হ্যান্ডেলে শোক জ্ঞাপন করে লিখেছেন, ‘আজিজুল হক একজন লড়াকু, সংগ্রামী নেতা ছিলেন। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি কখনও মাথা নত করেননি। তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার ও সহযোগীদের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা জানাই।’ বাম নেতার প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছে কংগ্রেস এবং সিপিএম ও অন্যান্য বামদলগুলি। আজিজুল হকের ১৯৪২ সালে হাওড়া জেলার উলুবেড়িয়া মহকুমার রণমহল গ্রামে। জমিদার বাড়ির ছেলে আজিজুল একটা সময় বাবার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখিয়ে জমি বিলিয়ে ছিলেন কৃষকদের মধ্যে। মাত্র ১৭ বছর বয়সে অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন তিনি। খাদ্য আন্দোলনের মিছিলে যোগ দিয়ে তিনি আহত হন। ১৯৭০ সালে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বামফ্রন্ট সরকার আসার পর মুক্তি পান আজিজুল। বাম আমলেও ফের হাজতবাস হয় তাঁর। জেলের ভিতরেই পুলিসি অত্যাচারের শিকার হয়েছিলেন তিনি। জেলে বসেই লিখেছিলেন ‘কারাগারে ১৮ বছর’। তাঁর একাধিক বই পাঠকমহলে সমাদৃত হয়েছে। স্নায়ুরোগের কারণে শেষদিকে লেখালেখি চালিয়ে যেতে পারেননি। নেতা হিসেবে বরাবরই মেনেছেন চারু মজুমদারকে। জেল থেকে বেরিয়ে তৈরি করেছিলেন চারুপন্থী সিপিআই (এমএল) দ্বিতীয় কেন্দ্রীয় কমিটি।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে এগারোটা থেকে কলেজস্ট্রিট কফি হাউজের সামনে আজিজুল হকের দেহ শায়িত থাকবে। দুপুর একটায় মেডিক্যাল কলেজে দেহ দান করা হবে। ফাইল চিত্র