সংবাদদাতা, কাটোয়া: শেষ কবে নদী সংস্কার হয়েছিল কেউ মনে করতে পারছেন না। কোথাও নদী ক্রমশ সরু হয়ে গিয়েছে। আবার কোথাও মজে গিয়েছে নদী। কাটোয়ার ব্রহ্মাণী, খড়ি, ফড়ে নদীগুলির নাব্যতা বাড়াতে সংস্কারের দাবি তুলছেন চাষিরা। জল বাড়লেই প্লাবিত হয় বিঘার পর বিঘা কৃষিজমি। বর্ষার মরশুমে ধানের বীজতলা করার আগেই সেচদপ্তরের কাছে গ্রামীণ নদী সংস্কারের দাবি তুলছেন কৃষকরা।
কাটোয়া মহকুমায় ভাগীরথী ও অজয় ছাড়াও অনেক ছোট গ্রামীন নদী ও সেচখাল আছে। তাছাড়া বেশ কয়েক হাজার হেক্টর কৃষিজমি রয়েছে। সেখানে বছরে অন্তত দু’বার ধানের চাষ হয়। তাছাড়া তিল, পাট, কাটোয়ার ডাঁটা ছাড়া অন্যান্য ফসলও হয়। বর্ষার জল ছাড়াও ডিভিসির ছাড়া জল সেচখাল দিয়ে জমিগুলিতে পাওয়া যায়। পাশাপাশি গ্রামীন নদীগুলির সঙ্গেও অনেক সেচখাল যুক্ত রয়েছে। বর্ষার সময়ে বিভিন্ন জলাধার থেকে ছাড়া জলে সেচখাল ও গ্রামীণ নদীগুলি দিয়ে এসে কৃষিজমি প্লাবিত করে। আগেও খড়ি নদীর জল কাটোয়া-২ ব্লকের পলসোনা অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষিজমির দফারফা করেছিল। পাকা ধান ছেঁকে নৌকায় চাপিয়ে আনতে হয়েছিল কৃষকদের। ব্রহ্মাণী নদীর জলেও একই অবস্থা হয়েছিল। গতবছরেও জলাধার থেকে ছাড়া জলে দুই নদীই প্লাবিত হয়ে বহু গ্রামকে ভাসিয়ে দিয়েছিল। চাষিরা জানান, দীর্ঘদিন নদীগুলি সংস্কার না হওয়ায় নাব্যতা কমে জল ধারণ ক্ষমতা কমেছে। ফলে অল্প জল বহন ক্ষমতাও কমে গিয়েছে। সেচদপ্তরের নজরদারির অভাবে কাটোয়ার গ্রামীণ নদীগুলি ক্রমশ মজে যাচ্ছে। তাছাড়া সেচখাল বা ক্যানেলের দু’ধারের জমির মাটি পড়ে তাতে নাব্যতা অনেক কমে গিয়েছে। ফলে বর্ষা এলেই সেচখাল উপচে জল লাগোয়া জমিগুলিতে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। যার খেসারত দিতে হচ্ছে চাষিদেরই। কারণ কখনও বীজতলা তৈরি থাকে। আবার কখনও পাকা ধান জমিতে কাটা পড়ে থাকে। সেচখাল উপচে জল জমিতে চলে আসায় ক্ষতিই হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কাটোয়া-২ ব্লকে ব্রহ্মানী ও খড়ি, কেতুগ্রাম-১ ও ২ ব্লকে বাবলা, ঈশানী, কুয়ে এবং মঙ্গলকোটে কুনুর নদী রয়েছে৷ সব জায়গাতেই বৃষ্টি হলেই নদী গুলিতে কানায় কানায় পরিপূর্ণ থাকে।
তাছাড়া মহকুমা জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কাঁদর গুলিও সংস্কারের অভাবে মজে গিয়েছে। কোথাও কাঁদর বা ক্যানেল থেকে নীচু জমি গুলিতে নালা বেয়ে জল কৃষিজমিতে ঢোকে। কেতুগ্রাম-২ ব্লকে সেচ খাল সংস্কার করেছে জেলা পরিষদ।
কাটোয়া, মঙ্গলকোট, কেতুগ্রাম সহ আউশগ্রাম সব একই চিত্র উঠে এসেছে। আউশগ্রামের বেরেন্ডা অঞ্চলের বাসিন্দা মহন্মদ বসিরউদ্দিন, কেতুগ্রামের বাসিন্দা নিমাই পাল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গ্রামীণ নদী গুলি সংস্কার না হওয়ায় মজে গিয়েছে। আর কয়েকদিন পরেই বর্ষার চাষের জন্য বীজতলা তৈরির কাজ শুরু হবে। তার আগে খড়ি, ব্রহ্মানী, ফড়ে নদীর সংস্কার চাইছেন কৃষকরা।-নিজস্ব চিত্র