নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে জমির ব্যবহার সংক্রান্ত শ্রেণিবিন্যাসে বড়োসড়ো পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিল নবান্ন। দীর্ঘদিনের জটিলতা দূর করে জমির ৩৩১ ধরনের উপ-শ্রেণি কমিয়ে ১৭২-এ নামিয়ে আনা হয়েছে। এই মর্মে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে ভূমি ও ভূমিসংস্কার এবং উদ্বাস্তু, ত্রাণ ও পুনর্বাসন দপ্তর। রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছে, জমি সংক্রান্ত অনলাইন পরিষেবা ও লেনদেন আরও সহজ ও দ্রুত করতে সমস্ত শ্রেণিকে ১৬টি ‘সুপ্রা’ বা বৃহত্তর শ্রেণির আওতায় আনা হয়েছে। সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপ ‘ইজ অব ডুইং বিজনেস’-এর উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করবে এবং শিল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটিলতা অনেকটাই কমবে।
নয়া নির্দেশিকায় জমি ব্যবহারের ভিত্তিতে একত্র করে বৃহত্তর শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। যেমন, রাইস মিল, শিল্প কারখানা, ক্রাশার, স-মিল এবং শিল্প তালুককে সামগ্রিকভাবে ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল’ শ্রেণিতে রাখা হয়েছে। একইভাবে স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, পোস্ট অফিস, রেলস্টেশন ও থানাকে ‘ইনস্টিটিউশন’ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া, কৃষিজমির ক্ষেত্রে শালি, সুনা, ডাঙা, আউশ, আমন, ধানবাগান, সোয়েম, দুয়েম প্রভৃতি শ্রেণিকে ‘এগ্রিকালচারাল’ বিভাগের আওতায় আনা হয়েছে। বাস্তু, বাড়ি, দালান, টাউনশিপ, আবাসন, হস্টেল ইত্যাদি রাখা হয়েছে ‘রেসিডেন্সিয়াল’ শ্রেণিতে। রাস্তা, শ্মশান, কবরস্থান, বাসস্ট্যান্ড, পার্ক প্রভৃতি ‘পাবলিক ইউটিলিটি’ এবং জলাভূমি, খাল, বিল, পুকুর, নালা ইত্যাদি ‘ওয়াটার বডি’র শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে।
প্রশাসনিক মহলের ব্যাখ্যা, এতদিন জমির অসংখ্য উপ-শ্রেণিবিন্যাসের কারণে শিল্প বা বাণিজ্যিক কাজে জমির চরিত্র রূপান্তরের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি হত। এই সরলীকরণের ফলে জমির চরিত্র বদল থেকে শুরু করে অনলাইন মিউটেশন প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হবে। শিল্প স্থাপনের উদ্দেশ্যে জমির চরিত্র বদলের আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্রের সংখ্যা কমাতে ইতিমধ্যেই পৃথক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। প্রশাসন মনে করছে, এই পদক্ষেপ রাজ্যে নতুন শিল্প স্থাপন ও বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক হবে। ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ বিষয়টির দায়িত্বে রয়েছে ক্ষুদ্রশিল্প দপ্তর। তাই ভূমিসংস্কার দপ্তরের তরফে শ্রেণিবিন্যাস সংক্রান্ত এই পদক্ষেপ সম্পর্কে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে ক্ষুদ্রশিল্প দপ্তরকে। -ফাইল চিত্র