নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চোরবাগান শিক্ষা দিয়ে গিয়েছে! তাই আসন্ন কালী ও জগদ্ধাত্রী পুজো নিয়ে বাড়তি সতর্ক প্রশাসন। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবান্নের তরফে জারি করা হয়েছে একগুচ্ছ নির্দেশিকা। আর তাতেই স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, আকর্ষণীয় থিমের স্বার্থে মণ্ডপে আলো-আঁধারি পরিবেশ তৈরি করা যাবে না। সর্বত্র রাখতে হবে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা। মণ্ডপের অভ্যন্তরে এবং প্রবেশ-প্রস্থানের পথে তো বটেই, যে প্যাসেজ দিয়ে দর্শনার্থীরা যাতায়াত করবেন, সেখানেও যথেষ্ট আলোর ব্যবস্থা করতে হবে। ২৯ অক্টোবর রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের নেতৃত্বে এক বৈঠকে কালীপুজো, দীপাবলি, জগদ্ধাত্রী পুজো, কার্তিক পুজো ও ছটের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়। তার ভিত্তিতে বিভিন্ন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিয়োর (এসওপি) জারি করেছে নবান্ন।
কেন এই সিদ্ধান্ত? দুর্গাপুজোয় চোরবাগানে ১৯ জন দর্শনার্থীর পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর পর মণ্ডপে ঢোকা-বেরনোর রাস্তা, থিমের নামে আবছায়া মণ্ডপ নিয়ে বিস্তর চর্চা চলে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই একাধিকবার জানিয়েছেন, এমন থিম যেন না হয়, যেখানে মানুষের সুরক্ষা ব্যাহত হয়। চোরবাগানের মণ্ডপে পর্যাপ্ত আলো না থাকার কথা জানান ওই ঘটনার তদন্তে গঠিত ‘সিট’-এর চেয়ারপার্সন তথা প্রাক্তন বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীও। এই প্রেক্ষাপটে আলো-আঁধারি থিম যে নৈব নৈব চ, সেটাই জানিয়ে দিয়েছে নবান্ন। প্রসঙ্গত, চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো থেকে বা বারাসত, নৈহাটির কালীপুজো—দর্শনার্থীদের ভিড় হয় দুর্গাপুজোর মতোই।
এসওপিতে আরও বলা হয়েছে, প্রতিটি প্যান্ডেল ও ছটপুজোর ঘাটে নিরাপদ প্রবেশ ও প্রস্থানের ব্যবস্থা, প্রাথমিক চিকিৎসার সুবিধা এবং পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবকের ব্যবস্থা করতে হবে। বড়ো পুজোগুলিতে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা রাখতে হবে। ভিড় নিয়ন্ত্রণের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। উদ্যোক্তাদেরই পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করতে হবে। একদল দর্শনার্থী প্যান্ডেল বা ঘাট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর পরবর্তী দলকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া যাবে। পুলিশ ও মহকুমাশাসককে খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে প্যান্ডেলের নকশাও। এসওপি অনুযায়ী, প্যান্ডেল ও ঘাটের কাছে বাজি ফাটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বেআইনি বাজির ব্যবহার বন্ধ করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষ যাতে শুধুমাত্র পরিবেশবান্ধব বাজি পোড়ান, তা নিশ্চিত করতে হবে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে। মাইকের ক্ষেত্রে সাউন্ড লিমিটার ব্যবহার এবং মাইক বাজানোর সময় সংক্রান্ত বিধি কঠোরভাবে কার্যকর করতে বলা হয়েছে। ছটের জন্য ঘাটগুলির নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার দিকে নজর রাখতে হবে। প্রতিটি ঘাটে পর্যাপ্ত আলো, প্রাথমিক চিকিৎসার দল, সিসিটিভি এবং সতর্কতামূলক ঘোষণার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখতে হবে। নদী বা জলাশয়ে দুর্ঘটনা এড়াতে জলের অংশে ব্যারিকেড দেওয়া, পর্যাপ্ত উদ্ধারকর্মী ও লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থা করে রাখতে বলা হয়েছে। পুরসভাগুলিকে কালীপুজোর আগের দিন থেকে ছটপুজোর পরের দিন পর্যন্ত কন্ট্রোল রুম চালু রাখতে হবে।



