সংবাদদাতা, বারুইপুর: ফি বছরের মত কলকাতার পুজোগুলিকে টেক্কা দিতে তৈরি বারুইপুরের নামকরা পুজোগুলি।বারুইপুরের ফুলতলা দুর্গোৎসব এবার ৭৫ বছরে পড়েছে। ফলে বাড়তি চমক নিয়ে তৈরি তারা। তামিলনাড়ুর শিবপুরম মন্দিরের আদলে হচ্ছে মণ্ডপ। উচ্চতা প্রায় ১১০ ফুট। জড়ি, সুতো,ফোম ও আসামের বাঁশ দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে প্যান্ডেল। অন্দরসজ্জায় ফুটে উঠবে বজরংবলী, শ্রীকৃষ্ণ, গরুড়। ঢোকার মুখে ৪০ ফুটের গণেশ মূর্তি। পুজো কমিটির কর্মকর্তা সোমনাথ চক্রবর্তী ও পার্থ ভৌমিক বলেন, ‘প্রদীপ রুদ্র পালের সাবেকি ঢঙের প্রতিমা ও চন্দননগরের অভিনব আলোকসজ্জা এবার বিশেষ আকর্ষণ। রাস্তার দু’ধারে আলোকসজ্জার মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক বার্তা তুলে ধরা হবে।’ মণ্ডপে প্রবেশ পথে ফ্লোরে থাকবে আলো। সেখান দিয়ে প্রবেশ দর্শনার্থীদের।
বারুইপুর শাসন বালক সঙ্ঘ এবারও নজরকাড়া থিম তৈরি করছে। পুজোর থিম, মানতপুরী। মণ্ডপশিল্পী রাজকুমার গিরি বলেন, ‘একটি মন্দিরের আদলে মণ্ডপ নির্মাণ হচ্ছে। দেবতাদের যে জিনিসপত্র মানত করা হয় তাই তুলে ধরা হচ্ছে মণ্ডপে। প্রবেশ পথে শিবলিঙ্গ, শিবের বসা মূর্তি থাকবে। তাতে প্রণাম করে ঢুকবে মানুষ। ভিতরে ঘণ্টা বাজবে। মানত করতে গেলে যেরকম সুতো, ইট ঝোলানো হয় তাই তুলে ধরা হবে। থাকবে ত্রিশূল। কমিটির কর্মকর্তা সুভাষ রায়চৌধুরী বলেন, ‘এবার পুজো ৬৯ বছরের। মণ্ডপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাবেকি মূর্তি। পুজো ঘিরে বসবে মেলা।’
বারুইপুরের সাহা পাড়া সাত ও আট নম্বর পল্লি সর্বজনীন দুর্গোৎসবের পুজো এবার ৬২ বছরে পড়েছে। কমিটির কর্তা বিধায়ক বিভাস সরদার বলেন, ‘রাজস্থানের প্রাচীন মন্দিরের আদলে নির্মিত হচ্ছে মণ্ডপ। রাজস্থানি সাজেই মা দূর্গা থাকবেন পরিবার নিয়ে। এছাড়া আলোকসজ্জায় থাকবে বিশেষ আকর্ষণ।’ বারুইপুরের সপ্তপল্লি সর্বজনীন এবারও চমক নিয়ে হাজির হচ্ছে। গত বছর ৫০ ফুটের দূর্গা করে তাক লাগিয়েছিল। কয়েক হাজার বেগুন গাছ, পাতা ও বাঁশ, মাছ ধরার জাল, কঞ্চি দিয়ে তৈরি হচ্ছে পুজো মণ্ডপ। পুজো কমিটির কর্তা আশীষ দেব রায় বলেন, ‘এবার ৫১ বছরে পড়েছে পুজো। মাটির শাড়িতে শোভিত হবেন মা।’ বারুইপুরের ফুলতলা পিয়ালি টাউন বিধান স্মৃতি সংঘের পুজো
এবার ৫৩ বছরে পড়েছে। পুকুরের উপর প্রায় ৩০০ ফুট ব্রিজ দিয়ে ঢুকতে হবে পুজো মণ্ডপে। পুজো কমিটির কর্তা বিপ্লব দাস ও বিপ্লব ভাদুড়ি বলেন, ‘হরেক রকম ফলের দানা দিয়ে
একটি মন্দিরের আদলে নির্মিত হচ্ছে মণ্ডপ। পাশাপাশি থাকবে আলোকসজ্জা। যা আলাদা করে নজর কাড়বে।’ বারুইপুর ভট্টাচার্য পাড়ার পুজো এবার ৪৯ বছরে পড়েছে।
পুজো কমিটির কর্তা বিপ্লব ঘোষাল বলেন, ‘এবারের থিম উমাপতি দেবী। উমাপতি হলেন ভগবান শিবের রূপ যেখানে তাঁকে দেবী উমার সহধর্মিনী হিসেবে চিত্রিত করা, যিনি পার্বতী নামেও পরিচিত। এই রূপটি পুরুষ ও নারী শক্তির সুরেলা মিলন এবং ঐশ্বরিক অংশীদারিত্বের আদর্শের উপর জোর দেয়।’