Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

বিষাক্ত চেরনোবিলকে সাজিয়ে তুলছে প্রকৃতি

১৯৮৬ সালের ২৬ এপ্রিল ঘটেছিল ভয়াবহ চেরনোবিল বিপর্যয়। পারমাণবিক রিঅ্যাক্টরের বিস্ফোরণ মুহূর্তের মধ্যে সব ওলটপালট করে দিয়েছিল। সেই ঘটনার ৪০ বছর পূর্ণ হয়েছে।

বিষাক্ত চেরনোবিলকে সাজিয়ে তুলছে প্রকৃতি
  • ২ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

১৯৮৬ সালের ২৬ এপ্রিল ঘটেছিল ভয়াবহ চেরনোবিল বিপর্যয়। পারমাণবিক রিঅ্যাক্টরের বিস্ফোরণ মুহূর্তের মধ্যে সব ওলটপালট করে দিয়েছিল। সেই ঘটনার ৪০ বছর পূর্ণ হয়েছে। মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বাঁচলেও প্রকৃতি কিন্তু চেরনোবিল ছাড়েনি। বিষাক্ত এই মাটিতে এখন প্রাণের এক অদ্ভুত খেলা চলছে। বিজ্ঞানী পাবলো বুরাকো যখন প্রথম সেখানে যান, তিনি অবাক হয়ে যান। তিনি দেখলেন ওখানকার ব্যাঙগুলোর রং বদলে একদম কুচকুচে কালো হয়ে গেছে। সাধারণ সবুজ ব্যাঙের বদলে এই কালো ব্যাঙগুলোই এখন সেখানে বেশি দেখা যায়।

Advertisement

বিজ্ঞানীদের মনে হয় গায়ের এই কালচে রং বা মেলানিনই তাদের তেজস্ক্রিয়তা থেকে বাঁচাচ্ছে। শুধু ব্যাঙ নয়, বিস্ফোরণ হওয়া সেই রিঅ্যাক্টরের দেয়ালে জন্মাচ্ছে বিশেষ ধরনের কালো ছত্রাক। এই ছত্রাকগুলো যেন বিষ খেয়েই বেঁচে থাকতে শিখেছে। তবে সবচেয়ে বড়ো বদলটা হয়েছে প্রাণীদের সংখ্যায়। ওই অঞ্চলে মানুষের বসবাস নেই বলে এলাকাটা এখন একটা গভীর জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। সেখানে এখন নেকড়ে, হরিণ আর বুনো মোষেরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। প্রায় ১০০ বছর পর সেই এলাকায় আবার বাদামি ভালুকের দেখা মিলেছে। বিড়ালের মতো দেখতে চেনা-অচেনা অনেক বুনো প্রাণী এখন সেখানে রাজত্ব করছে।

মানুষ যে জায়গাকে মারণপুরী ভেবে ছেড়ে এসেছিল, প্রকৃতি তাকেই আবার নিজের মতো করে সাজিয়ে তুলছে। যদিও এখনও তেজস্ক্রিয়তার ভয় পুরোপুরি যায়নি। চেরনোবিল এখন মানুষের ভুল আর প্রকৃতির শক্তির এক জীবন্ত সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সেখানে বিপদের ছায়া থাকলেও প্রাণের স্পন্দন একটুও থেমে নেই। মানুষ যা ধ্বংস করেছিল, প্রকৃতি তা নিজের জোরেই আবার ফিরে পেয়েছে। মানুষের সংযোগ না থাকলে প্রকৃতি যে কত সুন্দর হতে পারে, চেরনোবিল তার সবচেয়ে বড়ো প্রমাণ। চেরনোবিলের জঙ্গল এখন পৃথিবীর অন্যতম বড়ো এক অলিখিত অভয়ারণ্য।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ