নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: কথা বলতে বলতে হঠাৎ ফোন কেটে দিয়েছিল প্রেমিকা। সন্দেহ হওয়ায় যুবক দৌড়ে প্রেমিকার বাড়ি এসে দেখেন, সে সিলিং ফ্যান থেকে ওড়নার ফাঁস দিয়ে ঝুলছে। কোনও কিছু না ভেবেই প্রেমিক মৃতদেহ নামিয়ে ফেলেন। ওই যুবককে হন্তদন্ত হয়ে ছাত্রীর বাড়িতে ঢুকতে দেখে আশপাশের লোকজন ওই বাড়িতে উঁকি মেরে এমন দৃশ্য দেখে সন্দেহ প্রকাশ করেন।
তখন কৃষ দাস নামে ওই যুবক তাঁদের জানান, ছাত্রী অসুস্থ, হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দারাও পিছু পিছু চলে আসেন হাসপাতালে। খবর পেয়ে ছুটে আসেন একাদশ শ্রেণির ওই ছাত্রীর বাবাও। চিকিৎসকরা ছাত্রীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এরপরই সেখান থেকে পালিয়ে যান কৃষ।
এদিকে, প্রেমিকের বিরুদ্ধে নরেন্দ্রপুর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ দায়ের করেছে মৃতের পরিবার। বুধবার বিকেলে ঘটনাটি ঘটেছে নরেন্দ্রপুর থানার চড়কতলা এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই ছাত্রীর সঙ্গে প্রতিবেশী যুবকের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল কিছুদিন আগেই। তার বিরুদ্ধে আগেও এলাকার একাধিক মহিলার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করার অভিযোগ ছিল। এ নিয়ে বহুবার কৃষের পরিবারের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরিবারের দাবি, বুধবার বিকেলে কৃষের সঙ্গে ফোনে কথা বলছিল মেয়ে। তখন বাড়িতে কেউ ছিল না। ফোনে কথা বলার পরই নিজের মোবাইলের লক খোলার পাসওয়ার্ড মাকে মেসেজ করে জানিয়ে দিয়েছিল ওই ছাত্রী। কিন্তু এতে আমল দেননি তিনি।
পুলিসের ধারণা, দু’জনের মধ্যে কোনও বিষয়ে ঝামেলা হওয়ায় ওই ছাত্রী আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। কৃষের বাবা জানিয়েছেন, আমার ছেলে দোষী হলে উপযুক্ত শাস্তি হোক। এদিকে, ফোনে কথোপকথনে কী এমন হল, যার জন্য এমন পরিণতি, সেটাই ভাবাচ্ছে তদন্তকারীদের।