নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: সোশ্যাল মিডিয়ার সূত্র ধরে অনলাইন শেয়ার ট্রেডিং করতে গিয়েছিলেন নারায়ণপুরের এক বাসিন্দা। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে তাঁকে যুক্ত করে নিয়েছিল প্রতারকরা। সেই ফাঁদে পা দিয়ে তিনি ৬৭ লক্ষ টাকা বিনিয়োগও করেছিলেন তাতে। এমনকী, এক মাসের আগেই মুনাফা সহ তাঁর ব্যালান্স (ভুয়ো) দেখানো হয় তিন কোটি টাকা! কিন্তু, মুনাফা তো দূরের কথা, ফিরে পাননি বিনিযোগের ৬৭ লক্ষ! সর্বস্বান্ত হয়ে ওই ব্যক্তি নারায়ণপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিস। সাইবার বিশেষজ্ঞদের কথায়, অনলাইনে শেয়ার ট্রেডিংয়ের ফাঁদ নতুন নয়। বেশ কয়েক মাস ধরেই এই ফাঁদ পেতে লক্ষ লক্ষ টাকা লুট করছে প্রতারকরা। প্রতারকরা সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ধরনের বিনিয়োগের বিজ্ঞাপন ছেড়ে দিচ্ছে। কেউ যোগাযোগ করলে তাদের শিকারে পরিণত হচ্ছেন তিনি। এক্ষেত্রে ইচ্ছুক গ্রাহককে টেলিগ্রাম গ্রুপ বা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত করা হয়। তারপর প্রতারকরা পরামর্শদাতা সেজে বিনিয়োগের বিভিন্ন প্ল্যান দেয়। এমনকী, উপকৃত গ্রাহক সেজে অন্য প্রতারকরাও ওই গ্রুপে থাকে। এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহ নাগাদ নারায়ণপুরের ওই বাসিন্দা বিনিয়োগ করতে শুরু করেন। অনলাইন এবং আরটিজিএস করে তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে তিনি মোট ৬৭ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেন। প্রতারকরা এক মাস আগেই তাঁর ভুয়ো ব্যালান্স শিট তৈরি করে দেখান, তাঁর টাকার অঙ্ক ৩ কোটি ৭ লক্ষ হয়ে গিয়েছে। এরপর জানায়, এই প্ল্যানটি বন্ধ করা হবে। মুনাফা সহ টাকা তাঁর অ্যাকাউন্টে সেটেলমেন্ট করে দেওয়া হচ্ছে। তার জন্য ট্যাক্স বাবদ ২৫ লক্ষ ৬১ হাজার এবং ব্রোকারেজ বাবদ আরও ২৫ লক্ষ ৬১ হাজার পেমেন্ট করতে হবে। তখন বুঝতে পারেন, প্রতারণার শিকার হয়েছেন তিনি।



