নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: উচ্চ মাধ্যমিকে অষ্টম হওয়া নন্দীগ্রামের পারিজাত মাইতি প্রথমবার নিট পরীক্ষা দিয়ে অভাবনীয় রেজাল্ট করলেন। তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৬৫১। পারিজাতের সর্বভারতীয় র্যাংক ১৩৮৩। সর্বভারতীয় জেনারেল র্যাংক ৭৭৮। দেশের যে কোনো প্রান্তে এইএমস ইনস্টিটিউটে ভরতি হতে চান নন্দীগ্রামের এই কৃতী ছাত্র। বাবা বোধিসত্ত্ব মাইতি মহম্মদপুর শিবনারায়ণ শিক্ষা নিকেতনের প্রধান শিক্ষক। এই স্কুল থেকেই এবার অষ্টম স্থান দখল করেছেন পারিজাত। উচ্চ মাধ্যমিকের রেজাল্ট ঘোষণার দিন তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ছিল ৪৮৭। র্যাংক ছিল দশম। কিন্তু, রিভিউয়ে বাংলায় দু’নম্বর বেড়ে পরিজাতের প্রাপ্ত নম্বর হয় ৪৮৯। অষ্টম স্থান লাভ করেন। পারিজাতের বাড়ি নন্দীগ্রাম বাজার এলাকায়। বাবা প্রধান শিক্ষক। মা ইরা প্রধান মাইতি সামসাবাদ বেণীমাধব বালিকা বিদ্যালয়ের ইংরেজির শিক্ষিকা। বাবা-মা দু’জনেই ইংরেজি নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। যদিও তাঁদের কৃতী ছেলে বিজ্ঞানে তুখোড়। পারিজাতের ঠাকুরদা সত্যেন্দ্রনাথ মাইতি ২০১৮সালে প্রয়াত হন। ঠাকুরদা চাইতেন, নাতি চিকিৎসক হোক। কারণ, এই পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন পেশায় চাকরি করলেও কেউ ডাক্তান হননি। তাই ঠাকুরদার আশীর্বাদকে পাথেয় করেই পারিজাত চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। নিটে দুর্দান্ত রেজাল্টের পর তাঁর সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার পথে।কোন মন্ত্রে উচ্চ মাধ্যমিক সংসদের পাশাপাশি নিটের এই অভাবনীয় রেজাল্ট? প্রশ্নের জবাবে পারিজাত বলেন, আমার সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো অ্যাকাউন্ট নেই। পড়াশোনা ছাড়া মোবাইল ব্যবহার করতাম না। বিষয়ভিত্তিক গৃহশিক্ষক ছিলেন। এছাড়া, তমলুক শহরে একটি প্রতিষ্ঠান থেকে গাইড নিয়েছি। নিজে বেশিরভাগ সময় পড়াশোনার সঙ্গেই যুক্ত থেকেছি। বাবা-মা আমাকে ভীষণ সাহায্য করেছেন। দেশের যে কোনো প্রান্তে এইএমসে ভরতি হওয়ার ইচ্ছা আছে। মহম্মদপুর শিবনারায়ণ শিক্ষায়তন থেকে অতীতে কখনো উচ্চ মাধ্যমিকে মেধা তালিকায় স্থান পাওয়ার ঘটনা ঘটেনি। তা সত্ত্বেও ছেলের উপর ষোলোআনা আস্থা রেখে নিজের স্কুলেই তাকে ভরতি করেছিলেন বোধিসত্ত্ববাবু। গ্রামীণ এই স্কুলে পড়াশোনা করে উচ্চ মাধ্যমিকে মেধা তালিকায় র্যাংক করার পাশাপাশি নিটেও দুর্দান্ত রেজাল্ট করলেন পারিজাত। তাঁর এই সাফল্যে নিজের স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের পাশাপাশি এলাকার বাসিন্দারাও খুশি। পারিজাত মাইতি।



