নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: বীরভূমের পাথর মাফিয়া টুলু মণ্ডলের সিন্ডিকেট কাণ্ডে প্রথম জামিন পেলেন ধৃত নইমুদ্দিন মণ্ডল। টুলুর কাকার ছেলে, অন্যতম ম্যানেজার এবং সোঁতশাল ডিসিআর গেটের মূল নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত ৫৬ বছর বয়সি নইমুদ্দিনকে বৃহস্পতিবার সিউড়ি জজ কোর্ট শর্তসাপেক্ষে জামিন মঞ্জুর করেছে। এই জামিনের নির্দেশকে কেন্দ্র করে মামলার গতিপ্রকৃতি নিয়ে জল্পনা বেড়েছে। পুলিশের সদিচ্ছা এবং তদন্তের ধরন নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
গত আগস্টের শেষে মহম্মদবাজারে টুলুর আত্মীয় মিনার মন্ডলের বাড়ি থেকে পাহাড় প্রমাণ নগদ টাকা ও সোনা উদ্ধার হয়। শোরগোল পড়ে গোটা রাজ্যে। সামনে আসে জাল ডিসিআর কাণ্ড। স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে পুলিশ। তদন্তে নেমে টুলুর একের পর ম্যানেজার, আত্মীয় ও একমাত্র সরকারি কর্মী ভূমি দপ্তরের এক কর্তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার হন নইমুদ্দিনও। তবে, আদালতে থাকাকালীন একাধিকবার অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তাঁকে ভর্তি হতে হয় বর্ধমান মেডিকেলেও। বৃহস্পতিবার তাঁকেই জামিন দেয় আদালত।
নইমুদ্দিনের আইনজীবী রাফেউল হক এদিন বলেন, আদালতকে জানিয়েছিলাম, ‘আমরা জামিনের আবেদন করেছিলাম। এই মামলায় সেকশনের আধিক্য নয়, গুণগত মানই বিচার্য হওয়া উচিত। আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে গুণগত কোনও প্রমাণ ছিল না। ২১ দিন ধরে তিনি কাস্টডিতে আছেন। আমরা আদালতকে জানিয়েছি যে, ১১১ বিএনএস (অর্গানাইজড ক্রাইম) ধারা এই মামলায় প্রযোজ্য নয়। কারণ, এই ধারায় মামলা রুজু করতে গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গত ১০ বছরে একাধিক জঘন্য অপরাধের মামলা এবং চার্জশিট থাকতে হবে। অথচ আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে আগে কখনও কোনও মামলা ছিল না, এবং তাঁর কাছ থেকে কিছু রিকভারিও হয়নি’। আইনজীবী আরও জানান যে, ‘কেরালা হাইকোর্টের একটি নির্দেশের ভিত্তিতে তাঁরা আদালতে সওয়াল করেন যে, যেখানে ১১১ বিএনএস কার্যকরী নয়, সেখানে অ্যান্টিসিপেটরি বেল মঞ্জুর করা যায়। সেই যুক্তি মেনেই জজ সাহেব তাঁকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেন’।
তবে এই জামিনের ঘটনায় তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। প্রথম থেকেই অভিযোগ উঠছিল যে, এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে তৎকালীন শাসকদলের একাংশ, পুলিশ প্রশাসন এবং ভূমি দপ্তরের কর্তারা জড়িত। উদ্ধার হওয়া বেশ কিছু নথিতে তার প্রমাণও মিলেছিল। তা সত্ত্বেও মূল মাথাদের বা রাঘববোয়ালদের পুলিশ কেন এখনও গ্রেপ্তার করতে পারল না, তা নিয়ে সন্দিহান ওয়াকিবহাল মহল। এ বিষয়ে অপর আইনজীবী সোমনাথ মুখোপাধ্যায়ও বলেন, সন্দেহের বশবর্তী হয়েই নইমুদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। আমরা আইনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে দেখিয়েছি যে, শুধুমাত্র সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে আটকে রাখার প্রয়োজন নেই। বিচারক আমাদের যুক্তি মেনে তাঁকে জামিন দিয়েছেন।