নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের(এডিবি) ১২০০কোটি টাকার প্রজেক্টের পানীয় জল তিন মাসের মধ্যে নন্দীগ্রামে পৌঁছে দিতে হবে। রবিবার সন্ধ্যায় হলদিয়ায় প্রশাসনিক বৈঠকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার পরই জেলা প্রশাসনের চূড়ান্ত তৎপরতা শুরু হয়েছে। তমলুকের তালপুকুর এবং চণ্ডীপুরের মগরাজপুরে রেললাইনের নীচ নিয়ে পাইপলাইন পাতার কাজ তিন বছর আটকে আছে। এই সমস্যা সমাধানে আজ, মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় ডিএম অফিসে রেলের পদস্থ অফিসারদের নিয়ে প্রশাসনের জরুরি বৈঠক আছে। নামী কোম্পানি ওই কাজ করছে। চেন্নাইয়ে তাদের হেডকোয়ার্টারে ফোন করে সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে আসার নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। ইঞ্জিনিয়ার, টেকনিক্যাল স্টাফ ও অন্যান্য কর্মীর সংখ্যা বাড়িয়ে দ্রুত কাজ শেষ করতে হবে বলে নির্মাণকারী সংস্থাকে নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।
২০১৮-’১৯সালে নন্দীগ্রাম-১ ও ২ ব্লকে সব বাড়িতে মাথাপিছু ২৪ঘণ্টা ৭০লিটার পরিস্রুত পানীয় জল সরবরহ করার লক্ষ্যে মেগা প্রজেক্ট হাতে নিয়েছিল রাজ্য সরকার। সেসময় মোট বরাদ্দ হয়েছিল ৮১১কোটি টাকা। নন্দকুমার ব্লকের মীরপুরে রূপনারায়ণ নদ থেকে জল তুলে ওই থানার জলপাই মৌজায় ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে শোধনের পর নন্দীগ্রামে পৌঁছাবে। ২০১৯-’২০সাল থেকে ওই কাজ শুরু হয়। ২০২২সালে ডিসেম্বর মাসের মধ্যে ওই কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও নানা কারণে এখনও কাজ সম্পূর্ণ হয়নি। প্রকল্পমূল্য বেড়ে ১২০০কোটি টাকা হয়ে গিয়েছে। এডিবি সেই টাকা দিয়ে দিয়েছে। কিন্তু, নানা জটিলতায় ঠিকমতো কাজ এগোয়নি।
রবিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ওই প্রকল্পের কাজ তিন মাসের মধ্যে শেষ করে বাড়ি বাড়ি জল পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। গোটা প্রকল্পটিকে তিনটি প্যাকেজে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম প্যাকেজে ইনটেক পয়েন্ট, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট ইত্যাদি আছে। দ্বিতীয় প্যাকেজে পাইপলাইন এবং ১৫টি ওভারহেড রিজার্ভার আছে। তারমধ্যে ১০টি রিজার্ভার বসানো সম্পূর্ণ। পাঁচটি এখনও বাকি। বেশকিছু জায়গায় পাইপলাইন বসানোর কাজও বাকি। তৃতীয় প্যাকেজে নতুন করে অন্তর্ভুক্ত হওয়া ৩৬টি মৌজায় পাইপলাইন পাতা ও ১৪টি ওভারহেড রিজার্ভার তৈরি হওয়ার কথা। তৃতীয় প্যাকেজে গোটা কাজটাই বাকি।
জানা গিয়েছে, এই মুহূর্তে ৭০০জন ওই প্রজেক্টে কাজ করছেন। কিছুদিনের মধ্যে সেটা বাড়িয়ে ১০০০-১২০০করার টার্গেট নেওয়া হয়েছে। নির্মাণকারী সংস্থাকে সেইমতো নির্দেশ দেওয়া হবে। জল জীবন মিশন প্রকল্পে ২৪ঘণ্টার মধ্যে আট ঘণ্টা জল সরবরাহ করার নিয়ম আছে। কিন্তু, এডিবি স্কিমে ২৪ঘণ্টা জল পাওয়া যাবে। দৈনিক মাথাপিছু ৭০লিটার জল বরাদ্দ। মোট ১৮০০কিলোমিটার পাইপলাইন পাতা হবে। ইতিমধ্যে প্রায় ১৬০০কিলোমিটার পাইপলাইন পাতার কাজ সম্পূর্ণ।
মুখ্যমন্ত্রী ওই স্কিম দ্রুত রূপায়ণ করার নির্দেশ দিতেই চেন্নাইয়ে অবস্থিত ওই নির্মাণকারী সংস্থার হেডকোয়ার্টারে যোগাযোগ করে তাদের ভিজিটে আসতে বলা হয়েছে। কীভাবে দ্রুত ওই কাজ শেষ করা যায়, তা নিয়ে জেলা প্রশাসন, প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টেশন ইউনিট, পিএইচই দপ্তরের সঙ্গে নির্মাণকারী সংস্থার পদস্থ কর্মকর্তারা মিটিংও করবেন।
সামনেই নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচন। তারআগে এই মেগা জল প্রকল্প এবং বহুপ্রতীক্ষিত নন্দীগ্রাম-দেশপ্রাণ স্টেশন রেল প্রজেক্টের কাজ শেষ হোক এমনটাই চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই বৈঠকের পরই প্রশাসনের অন্দরেও বেনজির তৎপরতা শুরু হয়েছে।