নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ২০০৭ সালে ১৪মার্চ নন্দীগ্রাম গণহত্যার দিনে রাস্তা অবরোধ ঘিরে তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে পুলিসের সুয়োমোটো মামলার ১৮বছরেও সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়নি। শুক্রবার তমলুকের ফার্স্ট জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে ওই মামলার দিন ধার্য ছিল। অভিযোগকারী তৎকালীন এগরার এসডিপিও বিশ্বজিৎ ঘোষ এখন রাজ্য পুলিসের ডিআইজি(লিগ্যাল)। তিনি ভবানীভবনে কর্মরত। ওই পুলিসকর্তা এদিন আদালতে না আসায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুই হয়নি। এর আগে ৯জানুয়ারি মামলার দিনেও তিনি উপস্থিত হননি। এই অবস্থায় ওই পুলিসকর্তাকে আদালতে হাজির করানোর জন্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করতে অভিযুক্তদের আইনজীবী সৌম্যদীপ মাইতি আদালতে সওয়াল করলেন। ডিআইজি বিশ্বজিৎ ঘোষ অবশ্য বলেন, আমি কোর্ট থেকে সমন পাইনি। ২০০৭সালে ১৪মার্চ নন্দীগ্রাম গণহত্যার প্রতিবাদে তৃণমূল নেতা-কর্মীরা পূর্ব মেদিনীপুরের বিভিন্ন জায়গায় পথ অবরোধ করেছিলেন। সেদিন খেজুরি থেকে জখম সিপিএম কর্মীদের অ্যাম্বলেন্সে চড়িয়ে পুলিসি এসকর্টে তমলুক হাসপাতালে আনা হচ্ছিল। বাজকুল, নরঘাট সহ বিভিন্ন জায়গায় অবরোধে আটকে পড়ে আহতদের অ্যাম্বুলেন্স। সেদিন ওই এসকর্টে ছিলেন এগরার তৎকালীন এসডিপিও বিশ্বজিৎ ঘোষ। অভিযোগ, নরঘাটে অবরোধ চলাকালীন পাথর ছোড়া হয়। তাতে গাড়ির কাচ ভাঙে। বিশ্বজিৎবাবু চণ্ডীপুর থানায় সুয়োমোটো মামলা করেন। পরবর্তীতে ওই মামলায় ছ’জন তৃণমূল নেতার নাম যুক্ত করা হয়। তাঁদের মধ্যে একজন মারা গিয়েছেন। ২০০৭সালে ১৮আগস্ট ওই মামলায় চার্জশিট জমা দেয় চণ্ডীপুর থানার পুলিস। তৎকালীন এগরার এসডিপিও বর্তমানে ডিআইজি(লিগ্যাল) হিসেবে ভবানীভবনে কর্মরত। মামলার মোট সাক্ষী সাতজন। অভিযোগকারী বিশ্বজিৎ ঘোষ সবার আগে সাক্ষ্য দেবেন। কিন্তু, সমন পাঠানোর পরও তিনি হাজির না হওয়ায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়নি। ১৮বছর ধরে মামলা ঝুলছে। ওই মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন চণ্ডীপুরের জালপাই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অনিমেষ দাস, সুপ্রভাত পাত্র, চন্দন দাস, বাপি দাস প্রমুখ।শুক্রবার সুপ্রভাত পাত্র কোর্টে এসেছিলেন। তিনি বলেন, ১৮বছর ধরে একটা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হল না। নন্দীগ্রাম আন্দোলনের মুহূর্তে আমরা চণ্ডীপুরে দলকে নেতৃত্ব দিতাম। অবরোধের ঘটনায় ছ’জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। পরবর্তীতে পুলিস চার্জশিট জমা করে। ছ’জনের মধ্যে মন্টু মল্লিক নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। অথচ, ১৮বছরে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হল না। মামলার দিন পড়লেই কোর্টে ছুটে আসছি। অথচ, মামলার কোনও অগ্রগতি নেই। শুক্রবার আদালতে ওই মামলার দিন ধার্য ছিল। এদিন কোর্টে হাজির হওয়ার জন্য পুলিসকর্তা বিশ্বজিৎ ঘোষকে সমন পাঠানো হয়েছিল। তিনি সমন রিসিভ করলেও কোর্টে আসেননি। যেকারণে এদিনও সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হল না। এর চেয়ে দুর্ভাগ্যের কিছু হয় না।



