সংবাদদাতা, বোলপুর: শান্তিনিকেতনের পুরোনো আশ্রমিকদের মধ্যে পরিচিত মুখ এবং প্রখ্যাত শিল্পী নন্দলাল বসুর নাতি সুপ্রবুদ্ধ সেন প্রয়াত হলেন। সোমবার সকালে দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরেই শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন সুপ্রবুদ্ধবাবু। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় রবিবার তাঁকে দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই সোমবার সকাল ৭টা ১৫ মিনিট নাগাদ হৃদরোগে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর প্রয়াণের খবর শান্তিনিকেতনে পৌঁছতেই আশ্রমিকদের মধ্যে এবং বিশ্বভারতী পরিবারে গভীর শোকের আবহ তৈরি হয়। তাঁর পরিবারের সদস্য চক্রধর নায়ক বলেন, ‘ওঁর চলে যাওয়া আমাদের কাছে অপূরণীয় ক্ষতি। এই শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।’
সুপ্রবুদ্ধ সেন ছিলেন ভারতীয় শিল্পকলার অন্যতম পথিকৃৎ নন্দলাল বসুর কনিষ্ঠ কন্যা যমুনা সেনের পুত্র। নন্দলাল বসু দীর্ঘদিন কলাভবনের অধ্যক্ষ ছিলেন। আবার নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের দাদামশাই ক্ষিতিমোহন সেন ছিলেন সুপ্রবুদ্ধবাবুর পিসেমশাই। শান্তিনিকেতনে অমর্ত্য সেনের বাড়ির পাশেই তাঁদের পারিবারিক বাসভবন। সুপ্রবুদ্ধবাবুর ছাত্রজীবন শুরু পাঠভবনে। পরে কলকাতায় উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে তিনি ডিভিসি-তে ৩৩ বছর কর্মরত ছিলেন। ১৯৯৬ সালে অবসর গ্রহণের পর স্থায়ীভাবে শান্তিনিকেতনে ফিরে এসে বসবাস শুরু করেন। এলাকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিসরে তিনি ছিলেন অত্যন্ত পরিচিত মুখ।
সম্প্রতি ভোটার তালিকার এসআইআর প্রক্রিয়ার সময় তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের নাম বাদ পড়াকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। পরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ট্রাইবুনালে শুনানির পর তাঁদের নাম পুনরায় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। তাঁর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করে প্রবীণ আশ্রমিক সুপ্রিয় ঠাকুর বলেন, ‘আমার দীর্ঘদিনের সহপাঠী। ও আমার খুব ভালো বন্ধু ছিল। আমার বড় ক্ষতি হয়ে গেল।’
শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের সম্পাদক অনিল কোনার বলেন, ‘মিশুকে মানুষ। কোনো অহংকার ছিল না। সকলকে খুব সহজে আপন করে নিতে পারতেন।’