Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দুর্গা গড়েন-মূর্তি তৈরি শেখান, রান্না করেন, সবাই বলে অন্নপূর্ণা, হাওড়ার একমাত্র মহিলা মৃৎশিল্পী নমিতা সর

হাওড়ার পটুয়াপাড়ায় দিনভর প্রতিমা গড়ার কাজ করতে দেখা যায় তাঁকে। এবছর করছেন ১৭টা মূর্তি

দুর্গা গড়েন-মূর্তি তৈরি শেখান, রান্না করেন, সবাই বলে অন্নপূর্ণা, হাওড়ার একমাত্র মহিলা মৃৎশিল্পী নমিতা সর
  • ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুদীপ্ত কুণ্ডু, হাওড়া: ‘বেলা অনেক হলো। সবাইকে খেতে দিতে হবে। তারপর আবার কাজে বসব-’বুধবার দুর্গার দক্ষিণ হাতে রেখা টানতে টানতে বললেন নমিতা সর। তিনি হাওড়ার একমাত্র মহিলা মৃৎশিল্পী। বয়স ৪৮। হাওড়ার পটুয়াপাড়ায় দিনভর প্রতিমা গড়ার কাজ করতে দেখা যায় তাঁকে। এবছর করছেন ১৭টা মূর্তি। নতুন প্রজন্মকে তালিমও দিচ্ছেন সমানতালে। আন্দুল মোড় থেকে উনসানি রোড ধরে কোনা এক্সপ্রেসওয়ের দিকে অনেকটা এগনোর পর চোখে পড়ে, রাস্তার পাশে পরপর দাঁড়িয়ে মৃৎশিল্পের কারখানা। সেখানেই থাকেন নমিতা সর। ২০১৬ সালে স্বামী অসিত সর মারা যান। পুত্র অঞ্জনকে নিয়ে সংসার। আর আছেন কর্মচারিরা। তাঁরাও ঘরের লোক। নমিতা দু’টি কারখানা একা হাতে সামলান। বুধবার একমনে প্রতিমার হাতের রেখা তৈরি করছিলেন। কোথায় কাজ শিখেছেন? কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে উত্তর দিলেন, ‘বাবার কাছে। তখন বয়স দশ হবে।’ কথা বলতে বলতে জানা গেল, তাঁর বাবা ভদ্রেশ্বর চিত্রকর ছিলেন জেলার নামকরা একজন মৃৎশিল্পী। তাঁর কাছে মূর্তি গড়ার খুঁটিনাটি শেখেন। ওই পাড়ার অসিত সরের সঙ্গে বিয়ে হয়। প্রতিমা গড়াকে পেশা করে নেন। দুর্গা, কালী তো বানানই পাশাপাশি বছরভরই তৈরি করেন লক্ষ্মী, গণেশ, শীতলা জগদ্ধাত্রী। পুজো এসে গেল বলে এখন ব্যস্ততা তুঙ্গে। দু’টি কারখানায় ছ’জন কর্মচারি কাজ করেন। দুপুরে সবার জন্য রান্না করেন। ছেলেকে, কর্মচারিদের নিজের হাতে খাবার বেড়ে দেন। সবার শরীরস্বাস্থ্যের খেয়াল রাখেন কড়া চোখে। তাঁদের কাছে নমিতাদেবী সাক্ষাৎ অন্নপূর্ণা।

Advertisement

দৈনন্দিন লড়াই চালাতে চালাতেও নমিতার চোখে স্বপ্ন খেলে। আরও বড় একটি কারখানা তৈরি করবেন বলে ভাবেন। ইচ্ছে, নতুন প্রজন্ম এগিয়ে আসুক। মূর্তি গড়ার কাজ শিখুক। মাটি মাখা ডানহাত শাড়ির আঁচলে মুছে জল খান বোতল থেকে। বললেন, ‘অনেকে এখন মাটির কাজ শিখতে আমার কাছে আসে। আমি শেখাই। তবে খুব বেশি সংখ্যক আসে না। নতুন প্রজন্ম আরও বেশি করে এগিয়ে আসুক। প্রতিমা গড়া সহজ নয়। সবকিছু শিখুক।’ ব্যবসার কথা উঠলে জানান, ডায়মন্ডহারবার থেকে এঁটেল মাটি আসে। আর বাসুদেবপুর, রাজগঞ্জ থেকে আসে বেলেমাটি। এখন কাঁচামালের যা দাম বেড়েছে কুলিয়ে ওঠো যাচ্ছে না। চড়া সুদে ঋণ নিতে হয় মহাজনদের কাছ থেকে। ফলে গত বছরের তুলনায় এবার কম মূর্তি বানাতে হচ্ছে। মহিলা মৃৎশিল্পী? লোকে একটু বাঁকা নজরে দেখত। ব্যঙ্গও শুনতে হয়েছে। কিন্তু হাতের গুণে প্রতিষ্ঠা পেয়ে গিয়েছেন কুমোরপাড়ায়। বাবার সুনাম অক্ষুন্ন রেখেছেন বলে অনেকে বলে। কাজের গুণে কটাক্ষ বদলেছে সুনামে। তার হাত ধরে দায়িত্বও বেড়েছে। ভাবেন, নতুন প্রজন্মকে শিখিয়ে উপযুক্ত করে তুলতে পারলে কুমোরপাড়ার ঋণ শোধ হবে। নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ