সুদীপ্ত কুণ্ডু, হাওড়া: ‘বেলা অনেক হলো। সবাইকে খেতে দিতে হবে। তারপর আবার কাজে বসব-’বুধবার দুর্গার দক্ষিণ হাতে রেখা টানতে টানতে বললেন নমিতা সর। তিনি হাওড়ার একমাত্র মহিলা মৃৎশিল্পী। বয়স ৪৮। হাওড়ার পটুয়াপাড়ায় দিনভর প্রতিমা গড়ার কাজ করতে দেখা যায় তাঁকে। এবছর করছেন ১৭টা মূর্তি। নতুন প্রজন্মকে তালিমও দিচ্ছেন সমানতালে। আন্দুল মোড় থেকে উনসানি রোড ধরে কোনা এক্সপ্রেসওয়ের দিকে অনেকটা এগনোর পর চোখে পড়ে, রাস্তার পাশে পরপর দাঁড়িয়ে মৃৎশিল্পের কারখানা। সেখানেই থাকেন নমিতা সর। ২০১৬ সালে স্বামী অসিত সর মারা যান। পুত্র অঞ্জনকে নিয়ে সংসার। আর আছেন কর্মচারিরা। তাঁরাও ঘরের লোক। নমিতা দু’টি কারখানা একা হাতে সামলান। বুধবার একমনে প্রতিমার হাতের রেখা তৈরি করছিলেন। কোথায় কাজ শিখেছেন? কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে উত্তর দিলেন, ‘বাবার কাছে। তখন বয়স দশ হবে।’ কথা বলতে বলতে জানা গেল, তাঁর বাবা ভদ্রেশ্বর চিত্রকর ছিলেন জেলার নামকরা একজন মৃৎশিল্পী। তাঁর কাছে মূর্তি গড়ার খুঁটিনাটি শেখেন। ওই পাড়ার অসিত সরের সঙ্গে বিয়ে হয়। প্রতিমা গড়াকে পেশা করে নেন। দুর্গা, কালী তো বানানই পাশাপাশি বছরভরই তৈরি করেন লক্ষ্মী, গণেশ, শীতলা জগদ্ধাত্রী। পুজো এসে গেল বলে এখন ব্যস্ততা তুঙ্গে। দু’টি কারখানায় ছ’জন কর্মচারি কাজ করেন। দুপুরে সবার জন্য রান্না করেন। ছেলেকে, কর্মচারিদের নিজের হাতে খাবার বেড়ে দেন। সবার শরীরস্বাস্থ্যের খেয়াল রাখেন কড়া চোখে। তাঁদের কাছে নমিতাদেবী সাক্ষাৎ অন্নপূর্ণা।



