নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: আসানসোল, দুর্গাপুর দক্ষিণবঙ্গের দুই মেগা শহরেই পুরভোট নিয়ে তলায় তলায় প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে প্রশাসন। একইভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও সলতে পাকাতে শুরু করেছে। আন্দোলনের ঝাঁজ বাড়াচ্ছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। সোমবার তার আঁচ পড়ল আসানসোলের জেলাশাসকের অফিসের সামনে। কংগ্রেসের আন্দোলন ঘিরে ছড়িয়ে পড়ল তুমুল উত্তেজনা। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও গ্রেপ্তারের মূল দাবি থাকলেও দুই শহরে পুরভোটের আগে যোগ্যদের নাম ভোটার তালিকায় তোলার দাবিতেও সরব হন কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা। কংগ্রেসের সেই বিক্ষোভ আন্দোলনের বাধা দেয় পুলিশ। তুমুল ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে যায়। তারই মাঝে কংগ্রেস কর্মীরা জেলাশাসক অফিসের গেটে উঠে পড়ে। কেন্দ্রীয় বাহিনী এনে কোনওরকমে পরিস্থিতি সামাল দেয় পুলিশ।
এদিন আসানসোলের বিধানচন্দ্র রায়ের মূর্তি পাদদেশে জমায়েত হতে থাকে কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা। দুর্গাপুর থেকে কংগ্রেস নেতা দেবেশ চক্রবর্তী জামুড়িয়ার কংগ্রেস নেতা বিশ্বনাথ যাদব, প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলার এসএম মোস্তাফার নেতৃত্বে মিছিল জেলাশাসক অফিসের প্রথম গেটে চলে আসে। তাঁরা ঢুকতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। তখনই পুলিশের সঙ্গে একপ্রস্থ ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। কংগ্রেস কর্মীরা স্লোগান তোলে, ‘জব জব মোদি ডরতা হ্যায়, পুলিশ কো আগে করতা হ্যায়।’ তারই মাঝে কয়েকজন কংগ্রেস কর্মী জেলাশাসক অফিসের গেটে উঠে পড়েন। কেন্দ্রীয় বাহিনী তাঁদের ঠেকানোর চেষ্টা করে। এরপর কংগ্রেস কর্মীরা জেলাশাসক অফিসের দ্বিতীয় গেটে ধরনায় বসে পড়েন। দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ চলার পর কংগ্রেস কর্মীরা অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) মিঠুন বিশ্বাসের কাছে স্মারকলিপি দেয়।
অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির সদস্য দেবেশ চক্রবর্তী বলেন,‘জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও তাঁকে গ্রেপ্তার করতে হবে, এটা আমাদের প্রাথমিক দাবি। আমাদের জেলার ক্ষেত্রে আরও একটি ভোটে যোগ্য ভোটাররা ভোটদান থেকে বঞ্চিত হওয়ার সম্ভবনা তৈরি হয়েছে। সামনেই আসানসোল ও দুর্গাপুরে পুরভোট। জেলায় ৩ লক্ষ ২০ হাজার মানুষের নাম এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাদ গিয়েছে। তাঁর মধ্যে অনেকেই নাম তোলার জন্য আর্জি করেছেন। সেই আবেদনের নিষ্পত্তি করে যোগ্যদের ভোটার তালিকায় নাম তুলতে হবে। যাতে পুরভোটে তাঁরা ভোট দানের সুযোগ পান।’
গত পুরবোর্ডেই আসানসোল পুরসভার কাউন্সিলার ছিলেন এসএম মোস্তাফা। ভোটার তালিকা থেকে তাঁর নামও বাদ পড়েছে। তিনি বলেন, ‘শুধু আমি নই বহু যোগ্য মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার। ভোট চুরি করে তিনি বিজেপিকে জিতিয়েছেন।’ বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত চক্রবর্তী অবশ্য বলেন, ‘জ্ঞানেশ কুমারের আমলেই একাধিক রাজ্যে বিরোধীরা জয়লাভ করেছে। তখন ভোট চুরির অভিযোগ ওঠেনি। বিজেপি জিতলেই ভোট চুরির কথা বলা হচ্ছে। মানুষ এই দ্বিচারিতা বুঝে গিয়েছে।’