Bartaman Logo
১২ জুন, ২০২৬

প্রয়াতদের তালিকায় জীবিতদের নাম! নিষ্ক্রিয় হচ্ছে আধার কার্ড, সংসদে হাজির হয়ে সমাধানের আশ্বাস ইউআইডিএআই প্রধানের

কখনও চোখের মণি মিলছে, কখনও আবার হাতের ছাপ! আধার নিয়ে নিত্যনতুন সমস্যায় জেরবার সাধারণ মানুষ। অথচ যে কোনও নাগরিক পরিষেবায় এখন এই কার্ড ছাড়া গতি নেই

প্রয়াতদের তালিকায় জীবিতদের নাম! নিষ্ক্রিয় হচ্ছে আধার কার্ড,  সংসদে হাজির হয়ে সমাধানের আশ্বাস ইউআইডিএআই প্রধানের
  • ১৯ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও নয়াদিল্লি: কখনও চোখের মণি মিলছে, কখনও আবার হাতের ছাপ! আধার নিয়ে নিত্যনতুন সমস্যায় জেরবার সাধারণ মানুষ। অথচ যে কোনও নাগরিক পরিষেবায় এখন এই কার্ড ছাড়া গতি নেই। ২৪ ঘণ্টা আগেই জানা গিয়েছে বিস্ফোরক এক পরিসংখ্যান— বিগত ১৪ বছরে দেশে ১১ কোটিরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু আধার কার্ড নিষ্ক্রিয় হওয়ার সংখ্যাটা মাত্র ১ কোটির সামান্য বেশি। অর্থাৎ মৃত্যুর পর 

Advertisement

সক্রিয় রয়েছে অধিকাংশের আধার কার্ড। এই নিয়ে শোরগোলের মধ্যেই সামনে এল নতুন তথ্য, জীবিত থাকাকালীনই নিষ্ক্রিয় হয়ে যাচ্ছে অনেকের আধার নম্বর। ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির যাবতীয় নাগরিক পরিষেবা দীর্ঘদিন বন্ধ। একের পর এক অভিযোগে 
জেরবার ‘ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অব ইন্ডিয়া’ বা ইউআইডিএআই।
বৃহস্পতিবারই সংসদের পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি (পিএসি) তলব করেছিল ইউআইডিএআই প্রধান ভুবনেশ কুমার সহ সংস্থার একাধিক আধিকারিককে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কংগ্রেস সাংসদ কে সি বেণুগোপাল। সেখানে শুধু বিরোধী নয়, সরকার পক্ষের সাংসদরাও আধার সংক্রান্ত নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে খবর। সাংসদদের প্রশ্নের মুখে পড়ে আধার কর্তৃপক্ষও মেনে নেন, সমস্যা রয়েছে। তবে দ্রুত যাবতীয় সমস্যা সমাধানের আশ্বাসও দিয়েছেন ভুবনেশ কুমার।
সাধারণত, কেউ মারা গেলে তাঁদের আধার নম্বর নিষ্ক্রিয় করে দেওয়াই রীতি। তাহলে কীভাবে মৃতদের তালিকায় থেকে যাচ্ছে জীবিত ব্যক্তিদের নাম? কর্তৃপক্ষের দাবি, মৃত্যুপঞ্জীতে নাম থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ‘মৃত’ ধরে নেওয়া হয়। সেইমতোই নিষ্ক্রিয় করা হচ্ছে আধার। কিন্তু তাতেও ভুল থেকে যাচ্ছে। দপ্তরের এক কর্তার কথায়, মৃতদেহ সৎকারের আগে যে প্রশাসনিক কাজ সারতে হয়, সেখানে আধার সংক্রান্ত তথ্য জমা করা বাধ্যতামূলক। অনেকেই সেখানে মৃত ব্যক্তির বদলে কোনও জীবিত ব্যক্তির আধার সংক্রান্ত তথ্য জমা করেন। অনেক সময় দেখা যায়, সেই তথ্য যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি। ফলে মৃত্যু সংক্রান্ত নথিভুক্ত তথ্যে জীবিত ব্যক্তির আধার নম্বর বসে যায়। ফলে সেটি নিষ্ক্রিয় করা হয়। প্রশাসনিক পদে থাকা কোনও না কোনও ব্যক্তির গাফিলতির কারণেই এই ভুল হচ্ছে। এভাবে নিষ্ক্রিয় হওয়া আধার আবার সক্রিয় করা যথেষ্ট কঠিন। সেই কাজটি যাতে সরলভাবে করা যায়, তারই নির্দেশিকা জারি করেছে আধার কর্তৃপক্ষ। পরিবারের কারও মৃত্যু হলে সেকথা জানানোর জন্য ‘মাইআধার’ পোর্টালে ব্যবস্থাও করা হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কোনও ব্যক্তি যদি এই সমস্যায় পড়েন, তাহলে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের ইউআইডিএআইয়ের অফিসে বা তার আঞ্চলিক অফিসে আবেদন করতে পারেন। আবেদন করতে হবে নির্দিষ্ট ফর্মে, যা এখন পাওয়া যাচ্ছে দপ্তরের ওয়েবসাইটেই। ইমেল, ডাকযোগে বা সশরীরে হাজির হয়ে আবেদন করা যাবে। আবেদনের সত্যতা বিচার করবে কর্তৃপক্ষ এবং সেই মতো আবেদনকারীকে নিকটবর্তী আধার সেন্টারে পৌঁছতে বলা হবে। সেখানে মুখ, চোখের মণি ও আঙুলের ছাপ নেওয়া হবে। তারপর ৩০ দিনের ম঩ধ্যে ফের চালু হয়ে যাবে আধার। একবার সেই আধার সক্রিয় হলে জন্ম-মৃত্যু পঞ্জী সংশোধনের জন্য তা পাঠানো হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। বিষয়টি যাতে সহজে মিটে যায়, তার জন্যই এই ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত জীবিত ব্যক্তিকে মৃত ধরে নিয়ে আধার নিষ্ক্রিয় করে দেওয়ার ক’টি ঘটনা ঘটেছে, সেই তথ্য মেলেনি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ