Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বহু বৈধ ভোটারের নাম ‘ডিলিট’, ব্যাপক ক্ষোভ, কমিশনের ভুলে হয়রানিতে অসন্তোষ

এসআইআর ঘিরে বীরভূম জেলায় আতঙ্ক ক্রমশ বাড়ছে। জেলার প্রায় সাড়ে ১১হাজার বাসিন্দার নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে ‘ডিলিট’ করা হয়েছে

বহু বৈধ ভোটারের নাম ‘ডিলিট’, ব্যাপক ক্ষোভ, কমিশনের ভুলে হয়রানিতে অসন্তোষ
  • ২ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: এসআইআর ঘিরে বীরভূম জেলায় আতঙ্ক ক্রমশ বাড়ছে। জেলার প্রায় সাড়ে ১১হাজার বাসিন্দার নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে ‘ডিলিট’ করা হয়েছে। অনেকেই শুনানিতে হাজির হয়ে নথিপত্রও জমা দিয়েছেন। এই তালিকায় প্রচুর ‘বৈধ’ ভোটারও রয়েছেন বলে দাবি করছেন বিএলওরা। এর পিছনে কমিশনের কর্তারদেরই দুষছেন তাঁরা। কমিশনের এই ভুলে একদিকে যেমন বৈধ ভোটাররা ক্ষোভে ফুঁসছেন, অন্যদিকে গ্রামবাসীদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে ভেবে রীতিমতো সিঁটিয়ে রয়েছেন বিএলওরা। প্রশাসনের শীর্ষকর্তারা মুখে কুলুপ আঁটলেও জেলার সর্বত্র বিএলওদের একাংশই এখন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সরব হয়েছেন।

Advertisement

দুবরাজপুর বিধানসভার ১৩৯নম্বর পার্টের গুণ্ডাবা গ্রামের ২৯জন বাসিন্দার নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে স্রেফ মুছে ফেলা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২৮জনই শুনানিতে হাজির হয়েছিলেন। নথিও জমা দিয়েছিলেন। অন্তত ১৮জনের নথি নিয়ে কোনও সমস্যা ছিল না। কিন্তু প্রত্যেকের নামই মুছে ফেলা হয়েছে। কেন তাঁদের নাম মুছে ফেলা হল? সেই প্রশ্নের উত্তর কিছুতেই মেলাতে পারছেন না বিএলও অমর মাহাতা। বাদের তালিকায় রয়েছেন পাঁচ আদিবাসী ভোটারও। আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ওই বিএলও।
সিউড়ি বিধানসভার কেন্দুয়ার দীর্ঘ কয়েক দশকের বাসিন্দা প্রদীপ দাস ছোটবেলায় মা-বাবা দু’জনকে হারিয়েছেন। তাই ম্যাপিং করাতে পারেননি। শুনানিতে অবশ্য স্কুলের সার্টিফিকেট জমা দিয়েছিলেন। এফিডেভিট সার্টিফিকেটও জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু, তাঁর নামও তালিকা থেকে ডিলিট! ওই ২২৯ নম্বর বুথের বিএলও সুমন্ত গোস্বামী বলেন, কেন বাদ বুঝতে পারছি না। এরপর আমাকে প্রশ্ন করলে কী জবাব দেব? সিউড়ি বিধানসভার ১৬৬ নম্বর পার্টের পথিক দাস ও তাঁর দুই বোন রিঙ্কু ও মামনি দাস। ঝাড়খণ্ড থেকে আসা এই পরিবারটি বাবার নথির ভিত্তিতে নাম নথিভুক্ত করেছিল। বিএলওর দাবি, শুনানিতে সব প্রমাণপত্র দেওয়া সত্ত্বেও তালিকায় মামনির নাম নেই। বাকি দু’জন আছেন। ক্ষুব্ধ বিএলওর প্রশ্ন, একই নিয়মে শুনানি হলে ফল আলাদা হয় কী করে? 
বিএলওদের একাংশের অভিযোগ, ব্লকস্তরে নথির সত্যতা যাচাইয়ের পর সবুজ সংকেত মিললেও জেলাস্তরে গিয়েই জট পাকিয়েছে। অনেক বিএলও কমিশনের নির্দেশমতো মুচলেকা দিলেও ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। বিএলওদের দাবি, কমিশনের তরফে যে ১৩টি নথি চাওয়া হয়েছিল তা দেওয়া সত্ত্বেও নাম বাদ যায় কী করে? কোনও সমস্যা থাকলে অন্তত বিচারাধীন রাখতে পারত। কিন্তু, তা কেন করা হল না? প্রশাসনের এক কর্তা অবশ্য বলেন, এই ধরনের ভুল নিতান্তই সামান্য। কোনও বৈধ ভোটারের নাম যাতে তালিকা থেকে বাদ না যায় তারজন্য সবরকম ব্যবস্থা করা হবে।
তৃণমূলের জেলা সহ সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, গভীর চক্রান্ত চলছে। যাঁরা বছরের পর বছর ধরে এখানে বসবাস করছেন, শুনানিতে গিয়ে নথি জমা দিয়েছেন, তাঁদের নাম কোন জাদুবলে ডিলিট হয়ে গেল? কমিশনের গাফিলতির মাশুল সাধারণ মানুষ কেন দেবে? তাঁর দাবি, বিজেপির প্রথম থেকেই টার্গেট ছিল এক কোটির বেশি নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া। বিজেপির সেই চক্রান্ত সফল করেছে নির্বাচন কমিশন। তবে আমরাও ছাড়ছি না। বৈধ ভোটারদের আইনি সাহায্য করা হবে। পাল্টা বিজেপির জেলা সহ সভাপতি দীপক দাস বলেন, তৃণমূলের চাপে বিএলওরা এই গণ্ডগোল করেছেন। বৈধ নথি থাকলে কারও নাম বাদ পড়বে না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ