নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: নদীয়া জেলায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার কারণে প্রায় ১ লক্ষ জবকার্ড বাতিল হতে চলেছে। একশো দিনের কাজের পরিবর্তে প্রবর্তিত ভিবি জিরামজি প্রকল্পের তালিকায় যাতে একজনও ভুয়ো কর্মী না থাকে, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ। সম্প্রতি পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ নদীয়া জেলা সফরে এসেছিলেন। সেখানে জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে বিভিন্ন প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তুলে ধরা হয়। তাতে দেখা গিয়েছে, একশো দিনের কাজের বহু জবকার্ড হোল্ডারের বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই। জেলা প্রশানস সূত্র জানা গিয়েছে, এসআইআরে ২ লক্ষ ১৬ হাজার ৫৭৭ জন মৃত, স্থানান্তরিত, অনুপস্থিত ভোটারকে চিহ্নিত করা হয়েছিল। যার মধ্যে ৯৪ হাজার ৪৮৪ জনের নাম একশো দিনের কাজের তালিকায় ছিল। তাঁদের ভূতুড়ে কর্মী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই এইরকম প্রায় ৮০ হাজার নাম ভিবি জিরামজি প্রকল্পের তালিকা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, নাম বাদ দেওয়ার পাশাপাশি নতুন করে জবকার্ড ইস্যু করা শুরু হয়েছে। নদীয়া জেলায় মোট ১৩ লক্ষ ৫৯ হাজার ৪২৬ জন কর্মী রয়েছেন ভিবি জিরামজি প্রকল্পে। সেইসঙ্গে অতিরিক্ত আরও ৩৮ হাজার ৭০২ নাম তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, নবদ্বীপ ব্লকে ১৯৮৫ জন, কৃষ্ণনগর-২ ব্লকে ১১১৮ জন, কালীগঞ্জ ব্লকে ১৫৮৬ জন, কৃষ্ণনগর-১ ব্লকে ১৭৩২ জন, করিমপুর-২ ব্লকে ১৫২৮ জন, চাকদহ ব্লকে ১৪৯৯ জন, হাঁসখালি ব্লকে ২০৩৭ জন, শান্তিপুর ব্লকে ৬৭৭৯ জন, নাকশিপাড়া ব্লকে ৪৫৮৫ জন, হরিণঘাটা ব্লকে ৯০৫৭ জনের নাম নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, রাজ্যজুড়ে টানা তিন বছর একশো দিনের কাজ বন্ধ ছিল। পশ্চিমবঙ্গে পালাবদলের পর সেই প্রকল্প নাম বদলে ফের চালু হয়েছে। এই প্রকল্পে একশো দিনের পরিবর্তে কর্মীরা ১২৫ দিন কাজ পাবেন। সেইমতো নদীয়া জেলায় পুরোদমে কাজ শুরু হয়েছে। জবকার্ড হোল্ডারদের ই-কেওয়াইসি করানো হচ্ছে। নদীয়া জেলার সিংহভাগ পঞ্চায়েতেই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। প্রশাসনের আধিকারিকদের দাবি, বর্ষাকাল হওয়ায় বিভিন্ন জায়গায় কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। যার জন্য, বনদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে ভিবি জিরামজি প্রকল্পের অধীনে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এই কর্মসূচিকে সফল করতে সমস্ত গ্রামে প্রচার এবং চাহিদা তৈরির লক্ষ্যে ব্যাপক প্রচারাভিযান চালানোর কথা বলা হয়েছিল। এছাড়াও প্রশাসনিক বৈঠকে, যুক্তিধারা প্ল্যানিংয়ের জন্য গ্রাম পঞ্চায়েত সীমানা যাচাই শংসাপত্র এখনও বকেয়া থাকার বিষয়টিও উঠে এসেছে। দ্রুত ওই শংসাপত্রের কাজ সম্পন্ন করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ব্লক ও গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে প্রশিক্ষণের উপর আরও গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।