Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

চূড়ান্ত তালিকায় নাম ‘ডিলিটেড’, আতঙ্কে মৃত্যু কল্যাণীর বৃদ্ধার

চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরও এসআইআর নিয়ে আতঙ্ক কাটছে না। বরং আতঙ্কের নতুন নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘ডিলিটেড’ ও ‘বিচারাধীন’ দু’টি শব্দ।

চূড়ান্ত তালিকায় নাম ‘ডিলিটেড’, আতঙ্কে মৃত্যু কল্যাণীর বৃদ্ধার
  • ৭ মার্চ, ২০২৬ ০৯:০৩
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা : চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরও এসআইআর নিয়ে আতঙ্ক কাটছে না। বরং আতঙ্কের নতুন নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘ডিলিটেড’ ও ‘বিচারাধীন’ দু’টি শব্দ। আম আদমির সুরাহা কবে হবে? নেই উত্তর! পাশাপাশি মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। শুক্রবার কল্যাণীতে মৃত্যু হল এক বৃদ্ধার। 

Advertisement

চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর নাম ছিল না এতোয়ারি মাহাতোর (৬৮)। পরিবারের দাবি, সেই চিন্তায় শুক্রবার হৃদরোগে মৃত্যু হয়েছে বৃদ্ধার। মৃতার বাড়ি কল্যাণী ব্লকের কাঁচরাপাড়া পঞ্চায়েতের চর যাত্রাসিদ্ধি। দীর্ঘ  ২৮ বছরের লড়াইয়ের পর ২০০৯ সালে ভোটার তালিকায় নাম ওঠে এতোয়ারি মাহাতো সহ ওই গ্রামের হাজার খানেক বাসিন্দার। নদীয়া ও হুগলি জেলার টানাপড়েনে ঝুলে ছিল বাসিন্দাদের ভাগ্য। সদ্য প্রকাশিত তালিকায় সেখানে বাদ গিয়েছে ৩৭১ জনের নাম। ২৫১ জন রয়েছেন বিচারাধীন পর্যায়ে। যা নিয়ে রীতিমতো আতঙ্কে গ্রামবাসীরা। এদিনের মৃত্যুর ঘটনা সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল। মৃতার পরিবারের দাবি, এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকায় পরিবার ও অন্যান্য সদস্যদের নাম না থাকায় চিন্তায় হৃদরোগে আক্রান্ত হন বৃদ্ধা।  
এদিকে, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখাল হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের কেওড়া খালির মানুষ। হাসনাবাদ ও লেবুখালির রাস্তা অবরোধ করে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখানোয় যানজট সৃষ্টি হয়। আটকে যায় পর্যটকদের গাড়ি। হিঙ্গলগঞ্জের পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে বিক্ষোভ তুলে দেয়। স্থানীয় কেনা শেখ বলেন, আমাদের হিয়ারিংয়ে ডাকা হয়েছিল। সব নথি জমা দেওয়ার পরও আমাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তারই প্রতিবাদে বিক্ষোভ। 
এসআইআরে নাম বাদ গিয়েছে বারাকপুর জেলা বিজেপির ওবিসি মোর্চার আহ্বায়ক জয়দেব পালের। তাঁর বাড়ি দত্তপুকুরে। এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকায় তাঁকে ‘ডিলিটেড’ ভোটার হিসাবে দেখানো হয়েছে। আমডাঙা বিধানসভার চালতাবেড়িয়া এফ পি স্কুল ২৫০ নম্বর বুথের ভোটার ছিলেন জয়দেব পাল। দত্তপুকুরের রামকৃষ্ণপল্লির বাসিন্দা জয়েদেবের অভিযোগ, মাইক্রো অবজার্ভার তৃণমূলের নির্দেশে কাজ করেছেন। সেই কারণে বৈধ নথি জমা দেওয়া সত্ত্বেও ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ওঠেনি। তৃণমূল নেতা মান্তু সাহা বলেন, এখনও সময় আছে। উনি ফর্মটা ফিলআপ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে জমা দিন। যাতে নামটা ডিলিট না হয়।
এছাড়াও চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নাম না থাকায় টেনশনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে নদীয়ার রানাঘাটের বৃদ্ধ জয়দেব দত্তের (৬২) মৃত্যু হয়েছে। নামের পাশে ‘বিচারাধীন’ উল্লেখ থাকায় আতঙ্কে কীটনাশক খেয়েছিলেন কোচবিহার-২ ব্লকের কালপানি গ্রামের সামিনুর মিয়াঁ (২৮)। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর 
মৃত্যু হয়েছে।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ