Bartaman Logo
৩০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বেঙ্গল শক্তিপীঠ সার্কিটের অন্তর্ভুক্ত নলাটেশ্বরী মন্দির, উচ্ছ্বসিত বাসিন্দারা

বেঙ্গল শক্তিপীঠ সার্কিটে যুক্ত হল নলাটেশ্বরী মন্দির। স্থানীয়দের আশা, পর্যটন বৃদ্ধি করবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। বিস্তারিত পড়ুন।

বেঙ্গল শক্তিপীঠ সার্কিটের অন্তর্ভুক্ত নলাটেশ্বরী মন্দির, উচ্ছ্বসিত বাসিন্দারা
  • ৩০ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: বেঙ্গল শক্তিপীঠ সার্কিটের অন্তর্ভুক্ত হল সতীর একান্ন পীঠের অন্যতম নলাটেশ্বরী মন্দির। রাজ্য বাজেটে ঘোষিত ‘বেঙ্গল শক্তিপীঠ সার্কিট’-এ প্রাথমিক ভাবে নলাটেশ্বরীর নাম না থানায় হতাশ হয়ে পড়েছিলেন নলহাটিবাসী। তাঁদের মতে, বীরভূমের আধ্যাত্মিক ও পর্যটন মানচিত্রে নলাটেশ্বরী মন্দিরের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব কোনো অংশেই কম নয়। একান্ন পীঠের একটি মূল পীঠ বাদ পড়লে প্রকল্পের পূর্ণতা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। বিধানসভায় নলাটেশ্বরী মন্দিরকে শক্তিপীঠ সার্কিটে যুক্ত করার আবেদন জানান রামপুরহাটের বিধায়ক ধ্রুব সাহা। সোমবার তিনি বলেন, তাঁর আবেদন গৃহীত হয়েছে। স্বভাবতই খুশির হাওয়া নলহাটিতে। 

Advertisement

কথিত আছে, নলাটেশ্বরী মায়ের পুরো নাম দেবী পার্বতী মাতা ঠাকুরানি। বর্তমানে যেখানে মায়ের মন্দির, সেখানে একটি বটবৃক্ষের গাছে বিশাল আকারের মৌমাছির বাসা ছিল। সেই মৌচাকের মধু পান করতেন দেবী পার্বতী। দক্ষযজ্ঞের সময় এখানে মায়ের কণ্ঠনালী পডেছিল। পরবর্তীকালে এলাকার রামশরণ দেবশর্মা স্বপ্নাদেশ পেয়ে মৌচাক থেকে মায়ের নল উদ্ধার করে পুজো শুরু করেন। পরে রানি ভবানী মায়ের মন্দির নির্মাণ করেন। বহু যুগ পর সাধনার পর কুশলানন্দ ব্রহ্মচারী এখানে সিদ্ধি লাভ করেন। দেবীর নামানুসারে এ্‌ই শহরের নাম নলহাটি। জঙ্গলে ঘেরা ছোটনাগপুর রেঞ্জের পাহাড়ের উপরে অবস্থিত মায়ের প্রাচীন মন্দির। পাহাড়ের এক প্রান্তে রামচন্দ্রের পদচিহ্ন, সীতার মাথার চুল ও রামসীতার কড়ি খেলার সাতকপটার চিহ্ন রয়েছে। ১৯৬৮ সালে পাহাড়ের পশ্চিমদিকে খননে পাওয়া গেছে প্রাচীন, মধ্য ও প্রস্তর যুগের নানান অস্ত্র। বর্তমানে কলকাতার জাদুঘরে তা দেখতে পাওয়া যায়। বাম ও তৃণমূল সরকারের আমলে নলাটেশ্বরী মন্দিরকে কেন্দ্র করে পর্যটন বিকাশে তেমন কিছু করা হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই, বিজেপি সরকার আসার পর স্থানীয় মানুষ আশা করেছিলেন এবার হয়তো বঞ্চনার অবসান ঘটবে। কিন্তু প্রাথমিক ভাবে বেঙ্গল শক্তিপীঠ সার্কিটে বীরভূমের তারাপীঠ, নন্দীকেশ্বরী, বক্রেশ্বর, ফুল্লরা এবং কঙ্কালীতলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও নলাটেশ্বরী বাদ পড়ায় হতাশ হয়ে পড়েছিলেন নলহাটিবাসী। স্থানীয় ভাবাবেগ, পৌরাণিক গুরুত্ব এবং ক্ষোভকে উপলব্ধি করে এলাকার ভূমিপুত্র ধ্রুব সাহা বিধানসভায় বিষয়টি উত্থাপন করেন। ধ্রুব সাহা বলেন, বাজেটে ঘোষণার সময় ভুলবশতঃ নলাটেশ্বীর নাম বাদ পড়ে যায়। পরে সেটা অর্ন্তভুক্ত করার আবেদন জানানোয় তা যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে সরকারি অনুদান, উন্নত রাস্তাঘাট এবং সরকারি প্রচারের আলো নলহাটিতেও এসে পড়বে বলে আশাবাদী এলাকার মানুষ। তাঁরা বলেন, এবার বড় মাপের পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠলে হোটেল, লজ, পরিবহণ ব্যবস্থা এবং স্থানীয় হস্তশিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটবে, যা এলাকার যুবকদের কর্মসংস্থানের নতুন দিশা দেখাবে।
মন্দিরের  ট্রাস্ট বোর্ডের সম্পাদক সুনীল কুমার মস্করা বলেন, পর্যটন বিকাশের ক্ষেত্রে নলাটেশ্বীকে বেঙ্গল শক্তিপীঠ সার্কিটে যুক্ত করায় আমরা আনন্দিত। নলহাটি জংশনকেও অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পে অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে। দূরদূরান্ত থেকে আসা ভক্ত ও পর্যটকদের সুবিধার্থে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনের স্টপের যে ব্যবস্থা করা হচ্ছে, তা লুপ লাইনের এই অন্যতম প্রধান জংশনটির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেবে। নলাটেশ্বীর প্রচার ও প্রসার যেভাবে আস্তে আস্তে বৃদ্ধি পাচ্ছে  তা আমাদের কাছে গর্বের বিষয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ